‘আমরা কাজ করতে চাই, আমাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিন’—এমন আকুতি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হিরাঝিল হোটেলের চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় হিরাঝিল হোটেল শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা জানান, চাকরি হারিয়ে গত ১৩ দিন ধরে তারা ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় দিন-রাত কাটাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

সংগ্রাম কমিটির সদস্য বাবুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হিরাঝিল হোটেলের সিনিয়র শ্রমিক ও সংগ্রাম কমিটির নেতা আলমগীর হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মতিঝিলের পরিচিত প্রতিষ্ঠান হিরাঝিল হোটেল গড়ে তোলার পেছনে দীর্ঘদিনের শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনেক শ্রমিক প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই কাজ করে আসছেন। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের কর্মস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ১২ এপ্রিল মতিঝিল থানার মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্রসহ শ্রম আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকরা প্রশ্ন রাখেন, ‘যে কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় চুক্তি হয়েছিল, তাদের কাছেই এখন প্রতিকার চাইতে গেলে কেন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে?’
তাদের আরও অভিযোগ, শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো সংঘাত চান না; তারা শুধু শ্রমের ন্যায্য অধিকার, আইনগত পাওনা এবং কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ চান।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়ন করে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে হামলা ও হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরতে পারলে একদিকে তাদের পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারবে।
তারা দেশের সচেতন নাগরিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।