মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করা স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের ৬৯ বছর পূর্তি স্মরণে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্পুটনিকফেস্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাস, রাশিয়ার মহাকাশ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সফলভাবে স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণ করে। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। ঐতিহাসিক এই অর্জনকে স্মরণ করে আয়োজিত উৎসবে মহাকাশ অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায় এবং আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্পুটনিক-১ ও আধুনিক মহাকাশ অনুসন্ধান বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান কুইজ, মহাকাশ বিষয়ে সেমিনার, সনদপত্র বিতরণ এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

সেমিনারে বুয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেহেনা নাসরিন, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন এবং ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয় বক্তব্য দেন।

আলোচনায় বক্তারা মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্পর্ক তুলে ধরেন। তারা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনয় জানান, রুশ সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। মহাকাশ প্রকৌশল, পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

আয়োজকদের মতে, স্পুটনিকফেস্টের মতো বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন তরুণদের মহাকাশ ও প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে এবং ভবিষ্যতে গবেষণামুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।