চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্রের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান বলে দাবি করেছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম। নিজের পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ চেয়ে তিনি বলেছেন, আমন্ত্রণ জানানো হলে চাঁদের পৃষ্ঠে বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের অবস্থান দেখিয়ে দিতে পারবেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি চাঁদের গায়ে পৃথিবীর মহাদেশ, মহাসাগর ও বিভিন্ন দেশের অবস্থানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মতে, এই উপলব্ধির পেছনে আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ও মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট প্রচার পায়নি বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে এবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী বা গবেষকেরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে কোন দেশ বা মহাদেশের অবস্থান কোথায়, তা দেখিয়ে দিতে প্রস্তুত। তাঁর বিশ্বাস, সরকারি সহযোগিতা পেলে এই দাবি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আজ রাত ৮টায় রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে তাঁর পর্যবেক্ষণ দেখার আহ্বান জানান।
তবে চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্র থাকার দাবিটি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের দাবির সত্যতা যাচাই করতে হলে পর্যবেক্ষণের নির্দিষ্ট স্থান, পদ্ধতি, আলোকচিত্র বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। চাঁদের দৃশ্যমান পৃষ্ঠে আলো-ছায়া, গর্ত ও ভূপ্রকৃতির কারণে পরিচিত আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্য চোখে পড়তে পারে; কিন্তু সেই সাদৃশ্য নিজেই কোনো মানচিত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়।