রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে চতুর্দশ সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২ Time View
প্রকাশকাল : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূরের সভাপতিত্বে ”নারী ও কন্যার জন্য সহিংসতা মুক্ত ঢাকা মহানগর চাই” এই শ্লোগানের আলোকে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০.৩০ টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তন, আইডিইবি ভবন , কাকরাইল ভিআইপি রোড, ঢাকাতে- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার চতুর্দশ সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুনা আক্তার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কমিশনারের অফিস, ঢাকা । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারন সম্পাদক ডা. মালেকা বানু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা মহানগর কমিটির শিল্পীবৃন্দ।সম্মেলনের উদ্ধোধনী ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর। উদ্ধোধনীর পরে উদ্বোধনী অধিবেশন , সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা মহানগর কমিটির শিল্পীবৃন্দ।

সভায় জাতীয় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সাধারন সম্পাদক মঞ্জু ধর। এসময় প্রয়াত সকল বিশিষ্টজনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উেেদ্বাধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ সকল আগত অতিথিবৃন্দকে ফুল প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা, ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুনা আকতার বলেন, নারীদের হারিয়ে দেবার জন্য সমাজে বিভিন্ন বয়ান, যুক্তি বের হয়েছে। আমরা এখনো উচ্চপদে নারীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হারে সংখ্যা বাড়াতে না পারলেও বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা এসপি নারী , অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এমনকি গার্মেন্টস শ্রমিক, রেমিটেন্স কর্মী হিসেবে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংরক্ষিত আসন নিয়েও একটি বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। নারীরা ১৯৭১ সাল থেকে সামাজিক , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রে সমস্যা নিয়েও দায়িত্ব পালন করে আসছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর সমতা আদায়ের জন্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রায় ৫৬ বছর ধরে কাজ করে আসছে।এসডিজি লক্ষ্যগুলোর মাধমে ৪ নং লক্ষ্যের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের কথা বলা হয়েছে, তাই স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নারী উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন, সিডও সনদ ইত্যাদি এসডিজি সহ নারীবান্ধব আইনগুলো কিভাবে নারী আন্দোলনকে প্রভাব ফেলছে তা উত্তরনের জন্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
ঢাকা মহানগরকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বলেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে , মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

সমাজ এখনো নারীকে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে দেয়ার জন্য প্রস্তুত না। রাজনৈতিক সংকট পরবর্তীতে সামাজিক সংকটে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমরা কিভাবে মোকাবেলা করব তার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সাইবার সহিংসতার কারণে নারীরা যে সহিংতার শিকার হচ্ছে তারজন্য এখনই প্রস্তুত হতে হবে। নারী আন্দোলন সবসময় সরল পথে যায়নি, নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছে। নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা যে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবেশ তৈরী করেছি নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে। আসুন সকলে মিলে নারী আন্দোলনকে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কাজ করি।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে রেহানা ইউনুস বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি নিরাপদ ও মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর শাখা বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। সকল বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে ঢাকা মহানগরকে নারী ও শিশুর জন্য সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে শামীমা আফরোজ আইরিন সম্মেলন সংশ্লিষ্ঠ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে সবাইকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,ঢাকা মহানগর কমিটির পাশে থাকার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোমেনা শাহনূর সাধারন রিপোর্টের প্রচ্ছদ ধরে বলেন এই ছবি দেবার কারন হলো নারীরা শক্তির আধার ,মেয়েরা ঘরে -বাইরে সমান ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নারীকে তার অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে, তাহলেই তারা তাদের অধিকার নিয়ে লড়তে হবে। পরিবারে মায়েদের নিজেদের মেয়েদেরকে বৈষম্যের দৃষ্টিতে দেখা যাবেনা ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও প্রতিষ্ঠিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর শাখার সংগঠক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর। সাধারণ প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ২য় কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা মহানগররের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস ; ঢাকা মহানগর কমিটির আয় ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক ফেরদৌস জাহান রতœা। বিভিন্ন বিভাগীয় সম্পাদকরা তাদের রিপোর্ট সংক্ষিপ্ত আকারে পেশ করেন।
সাধারন সম্পাদকের রিপোর্টের উপর আলোচনায় অংশগ্রহন করেন-ওয়ারী পাড়ার সদস্য- হ্যাপি রানী দাস. কলবাগান পাড়ার সভাপতি মোর্শেদা বেগম এবং তরুনী সংগঠক,, । কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন সীমা মোসলেম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।
সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর শাখার সংগঠক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর।

সম্মলেনে রেহানা ইউনুসকে সভাপতি ও কানজি ফাতমো টগরকে সাধারণ সম্পাদক নর্বিাচতি করে ৩৫ সদস্যের নতুন কমটি ঘোষণা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category