ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান যানজট ও দূষণ রাজধানীবাসীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান ও খেলার মাঠের অভাব। সড়ক আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণপরিসর। ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্যের কারণে সড়কে মানুষের অধিকার ক্রমেই কমে আসছে। কম ব্যস্ত সড়কগুলোতে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রেখে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এর মাধ্যমে সামাজিকীকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
এ বিবেচনায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি’র সম্মিলিত উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটির ২ নং সড়কে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে দেশীয় নানা খেলা যেমন বিস্কুট দৌড়, সুই-সুতো দৌড় ও মারবেল দৌড়ের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনস্থলটি সাজানো হয় দেশীয় পাখি ও বৃক্ষের ছবির মাধ্যমে, যাতে শিশুদের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। অনুষ্ঠান শেষে খেলাধূলা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়।
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৪০০০ শহরে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করে ৭০ দশকে জ্বালানী সংকটের সময়। নব্বই এর দশকে এই উদ্যোগের আরো প্রসার ঘটে। বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে ডিটিসিএ’র সমন্বয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর প্রেক্ষিতে গণপরিবহনের উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য জনমত গড়ে তোলার আন্দোলন বেগবান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বলেন, ২০২৬ সালে বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী”। ব্যস্ত সড়ক ও যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যের কারণে নিরাপদে বাইরে খেলাধূলার সুযোগ শিশু-কিশোরদের জন্য সীমিত। নির্দিষ্ট সময়ে সড়ককে সাময়িকভাবে এলাকাবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলে তারা নিরাপদ পরিবেশে খেলাধূলা ও সামাজিকীকরণের সুযোগ পাবে। পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় এলাকাবাসী, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে কম গাড়ি নির্ভর, আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার পথে এটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
এছাড়াও আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, এছাড়াও আয়োজনে উপস্থিত ছিলের মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদী ইয়ুথ ক্লাব, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স, রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রতিনিধিবৃন্দ।