ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ভোর ৫:৩৭
সারা বাংলা

হিলি সীমান্তে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন, পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হিলি-হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামে (চুড়িপট্টি) মারুফ মন্ডল (১৬) নামের এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে, না তাকে হত্যা করা হয়েছে এনিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ওই কিশোরের গলায় আঘাতের দাগ থাকলেও রহস্যজনক ভাবে পুলিশ কোন ধরণের ব্যবস্থা নেইনি।

এ অবস্থায় ময়না তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছে। গত সোমবার (১৩ মে) ভোরে মারুফ তার চাচার বাড়ীতে মারা যায়। মারুফ মৃত ফেরদৌস মন্ডলের একমাত্র ছেলে। এদিকে, এলাকাবাসী জানান, চাচা চাচীর বিরুদ্ধে এতিম মারুফকে হত্যার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ এব্যাপারে ৫/৬ দিনেও কোন ধরণের প্রদক্ষেপ নেয়নি। এতেই প্রতীয়মান হয় পুলিশ অপরাধীদের আড়াঁল করে প্রকৃত এই হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মারুফের মা মাহফুজা বেগম জানান, আমি খবর পেয়ে হিলিতে আসি। ছেলের লাশ দেখতে চাইলে আমাকে বাঁধা দেওয়া হয়। আমার এতিম ছেলেকে তার চাচা-চাচীরা কৌশলে হত্যা করেছে। সে এমনিতে মারা যাইনি। আমি এর বিচার চাই।

গতকাল শনিবার দুপুরে ওই গ্রামে গেলে প্রতিবেশিরা জানান, মারুফের ২ বছর বয়সে তার বাবা ফেরদৌস মন্ডল মারা যায়। এরপর তার মা মাহফুজা বেগম এতিম ছেলে মারুফকে তার দাদীর কাছে রেখে পাশ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলার ভাবানিপুর গ্রামের এক ব্যাক্তিকে বিয়ে করে। আর তখন থেকেই মারুফের দেখাশুনা করত তার দাদী। গত দুই বছর আগে মারুফকে তার বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে ১ শতক জায়গা দান করে তার দাদী। এছাড়া প্রতিবেশি শ্যামলী নামের এক মহিলার কাছে ৪-৫ লাখ টাকা মারুফের নামে রেখে তার দাদী গত বছরে মারা যায়। এ অবস্থায় তার চাচা আজাদ মন্ডল মারুফের দেখভালের দায়িত্ব নেয় এবং মারুফকে বাড়ীতে রেখে দোকানে কাজ করাত।

মারুফের মামাত ভাই সাবের মন্ডল জানান, মারুফের নামে ১ শতক ভিটা জায়গা ও টাকা রেখে যাওয়ায় এর প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে চাচা আজাদ ও তার স্ত্রী হেনার। একারণে তারা প্রায় সময় মারুফের উপর শারীরিক নির্যাতন করত। মারুফ মারা যাওয়ার দুইদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়। প্রতিবেশিরা গত সোমবার ১৩মে ভোরে মারুফকে তার চাচা আজাদের বাড়ীতে মৃত অবস্থায় দেখে।

প্রতিবেশী মোফাজ্জল হোসেন জানান, আজাদের বাড়ীতে গিয়ে দেখি মারুফের লাশ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। আমি কাপড় সরিয়ে দেখি লাশের গলায় কালো দাগ এবং আচড়ের চিহ্ন ছিল।

মারুফের ফুফা মোত্তালেব হোসেন দাবি করেন, মারুফ কিশোর। তার কোন অসুখ ছিল না। ছেলেটাকে নিশ্চই হত্যা করা হয়েছে। ফুফু নুরজাহান বেগম জানান, তার চাচা-চাচী বলছে এমনিতেই মারা গেছে। আমার ভাতিজা এমনিইে মারা যায়নি। তার গলায় কালো দাগ ও নখের আচরের দাগ ছিল। তাকে নিশ্চয়ই হত্যা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আজাদ মন্ডল ও তার স্ত্রী হেনা বেগমের কাছে মারুফের মৃত্যুর কারণ কি ছিল এবিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করতে চাননি। তবে মারুফের চাচাতো বোন শ্যামলী জানান, সে তার বিছানায় এমনিতেই মরে পড়ে ছিল। মারুফের গলায় আগে থেকেই একটি দাগ ছিল।

জানতে চাইলে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আবার পরক্ষণে বলেন আমি সেখানে গিয়েছি। জানতে পেরেছি ওই ছেলেটা নেশা করে মারা গেছে। আবার বলেন সে তো মারা গেছে, সাংবাদিকদের এতো মাথা ব্যথা কেন? ওসি এই মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাঙ্গাত্মক কথার্বাতা বলেন। তার এমন মন্তব্যের কারণে অনেকেই সন্দেহ করছেন তিনি কি কিছুর বিনিময়ে এই হত্যাকে ধামাচাপা দিতে চাইছেন?