• ঢাকা
  • সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৯:৩৯

হাততালি এত কম কেন?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চরম রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে ভারতে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আছেন নরেন্দ্র মোদি। রক্ষণশীল হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তিনি। ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে একের পর এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন।

তার শাসনকালে বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর। ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের রায়ও নিজের দলের পক্ষে গেছে। সম্প্রতি মুসলিমবিরোধী একপেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। তথাকথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারতজুড়ে এনআরসির (জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন) তোরজোড় শুরু হয়েছে।

এসব কারণে তিনি ‘রক্ষণশীল’ হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। জনসভায় বক্তৃতা করতে গেলে সভাজুড়ে থাকে মোদির জয়ধ্বনি। মুহুর্মুহু হাততালিতে ফেটে পড়ে ময়দান। কিন্তু, শুক্রবার যেন তা হলো না। ছন্দপতন হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতায়।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম বলছে, বণিকসভায় বক্তৃতা চলাকালীন হাততালির পরিমাণ কম হওয়ায় এদিন খানিকটা হলেও বিরক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের মাঝপথে থেমে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হাততালি এত কম কেন? আপনারা মনে হয় আমার কথা ঠিকমতো শুনছেন না।’

শুক্রবার দেশের অন্যতম বড় বণিকসভা অ্যাসোচেমের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখছিলেন নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই বক্তৃতার দিকে নজর ছিল গোটা দেশের শিল্প সমাজের। অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর ছিল ব্যবসায়ীরা। মোদি তার বক্তৃতায় দেশের অর্থনীতির শোচনীয় অবস্থার কথা স্বীকার করেন। তবে এ থেকে উত্তরণে সঠিক কোনো দিশা দেননি তিনি।

উল্টো দাবি করেন, অর্থনীতি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বলেন, দ্রুত আমরা ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশে পরিণত হব। পাঁচ-ছয় বছর আগে দেশের অর্থনীতি রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে বর্তমানে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পেরেছি।

কিন্তু, মোদির এমন বাণী আশ্বস্ত করতে পারেনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের। সেভাবে হাততালিও পড়ছিল না প্রধানমন্ত্রীর কথাতে। তাই, বক্তৃতা থামিয়ে কিছুটা হলেও বিরক্তির সুরে মোদিকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘কী ব্যাপার! হাততালির শব্দ এত কম কেন? আমি তো আর একটু হাততালি আশা করছিলাম। আপনারা মনে হয়, অতীতের পরিসংখ্যান এখনও মনে করে রেখে দিয়েছেন। আর না হয় আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন না। শুনলে আরও বেশি হাততালি পড়ত।’

প্রধানমন্ত্রীর এই অসন্তোষ প্রকাশের পর অবশ্য আর হাততালির অভাব পড়েনি। সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান ভবন গর্জে ওঠে করতালির আওয়াজে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদির মতো প্রতাপশালী নেতাকে অর্থনীতি সংক্রান্ত বক্তৃতায় হাততালি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে হচ্ছে। সেটাই কি কম উদ্বেগের বিষয়?

বর্তমানে ভালো নেই ভারতের অর্থনীতি। অটোমোবাইল, পোশাক ও নির্মাণশিল্প ধুঁকছে। বেকারত্ব ও নগদের সংকটও অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। এখন রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অসম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কেউ কেউ বলছেন, ৭০ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন সবচেয়ে সংকটে। তবে এসব পরিসংখ্যানের ধার ধারেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার লক্ষ্য একটাই-২০২৫ সাল নাগাদ ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।