ঢাকা শনিবার, ২৫শে মে, ২০১৯ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

বিকাল ৫:০১
টপ স্লাইডবিশেষ প্রতিবেদন

হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের। হাইকোর্ট এ পণ্যগুলো বাতিল ঘোষণা করে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও এখনো বাজারে সিটি গ্রুপ, এসিআই, ড্যানিশ, প্রাণসহ নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলো নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ার পরেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর টাউন হল এবং মোহাম্মদপুরের বাজার ঘুরে এইসব নিম্নমানের পণ্য মজুদ ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে সিটি গ্রুপের তীর সরিষার তেল, এসিআই এর লবণ, মসলা, মোল্লা লবণ, প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ড্যানিশের হলুদ গুড়া, কাশেন ফুডের সান চিপস, বনফুলের লাচ্ছা সেমাই, প্রাণের লাচ্ছা সেমাইসহ হাইকোর্ট ঘোষিত ৫২টি ভেজাল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে।

টাউনহলের মুদি দোকানদার রমজান আলী বলেন, ‘আমরা তো জানিনা এসব পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে । কোম্পানিগুলো তো আমাদের কিছু জানায় নি। আমরা মাল কিনি বিক্রি করি আমাদের তো এগুলো জানবার কথা না।’

বাজার করতে আসা নিলয় হাসানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘এসিআই এর মত এরকম নামিদামি কোম্পানির পণ্য যদি ভেজাল ও নিম্নমানের হয় আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ভরসা রাখবে কাদের উপরে। তাই আমি মনে করি অচিরেই এ সব নামিদামি কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া উচিত অপসারণ করা উচিত এদের নিম্নমানের পণ্যগুলো বাজার থেকে।’

টাউন হলের আরেক ব্যবসায়ী নজরুল বলেন, ‘আপনারা আমাদের কাছে কেন এসেছেন। যেসব কোম্পানিগুলো এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করে এবং আমাদের সাপ্লাই দেয় না তাদের কাছে যান। আমরা সাধারণ বিক্রেতা ক্রেতারা চাই আমরা বিক্রি করি, এখানে আমাদের কোন লাভ নাই। আর সরকার যদি এসব পণ্য নিষিদ্ধ করে থাকে আমরা অবশ্যই সে সব পণ্য বিক্রি করব না।সবার আগে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ করুন তাহলে বাজারে নিম্নমানের পণ্য আসবে না।’

সরকারি চাকরি করেন মোহাম্মদ রাজা মিয়া নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে এসেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বিএসটিআই যদি এসব পণ্য নিম্নমানের ঘোষণা করে থাকে তাহলে বাজারে আসছে কিভাবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও নজরদারি করা উচিত। জনগণকে ভেজাল মুক্ত পণ্য নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।’

মোহাম্মদপুর মুদির দোকানদার মিম এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুনেছি কিছু পণ্যকে নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে। আমার দোকানে কিছু এসব পণ্য আছে। তবে খুব শীঘ্রই কোম্পানিকে এসব পণ্য ফেরত দিবো। তবে এসব পণ্য যে নিম্নমানের তা কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়নি।’

বাজার করতে আসা মৌসুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘রমজান আসলেই এমন তোড়জোড় দেখা যায়। যেসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের তাদের কিছুই হবে না। দুইদিন পরে আবার এসব পণ্য ঠিকই বাজারে পাওয়া যাবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘৫২টি পণ্য ভেজাল ঘোষণা করে বাতিল করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। যেসব কোম্পানি ভোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করেন না তাদের জন্য এটা অশনিসংকেত এবং ভোক্তাদের জন্য সুবার্তা।’

এদিকে গত ৩ মে ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। গত ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

ভেজাল ও নিম্নমানের ওই ৫২টি খাদ্যপণ্য হলো :

১. রূপচাঁদা সরিষার তেল
২. তীর সরিষার তেল
৩. পুষ্টি সরিষার তেল
৪. প্রাণ লাচ্ছা সেমাই
৫. প্রাণ হলুদ গুড়া
৬. প্রাণ কারি পাউডার
৭. এসিআই পিউর ধনিয়া গুড়া
৮. এসিআই আয়োডিনযুক্ত লবন
৯. ড্যানিশ হলুদের গুড়া
১০. ড্যানিশ কারী পাউডার
১১. বাঘাবাড়ী স্পেশাল ঘি
১২. ফ্রেশ হলুদ গুড়া
১৩. মধুবন লাচ্ছা সেমাই
১৪. মিঠাই লাচ্ছা সেমাই
১৫. ওয়েল ফুড লাচ্ছা সেমাই
১৬. মেসার্স মুধবন (সিলেট) লাচ্ছা সেমাই
১৭. সান চিপস
১৮. সান হলুদ গুড়া
১৯. মোল্লা সল্ট আয়োডিনযুক্ত লবন
২০. মধুমতি আয়োডিনযুক্ত লবন
২১. ডুডলি নুডলস
২২. বনলতা ঘি
২৩. গ্রীণ ব্লিচিং (জিবি) সরিষার তেল
২৪. আরা ফুড ড্রিংকিং ওয়াটার
২৫. আল সাফি ড্রিংকিং ওয়াটার
২৬. মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার
২৭. মর্ণ ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার
২৮. ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার
২৯. আরা আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার
৩০. দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার
৩১. শান্ত ফুড সফট ড্রিংক পাউডার
৩২. জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার
৩৩. পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া
৩৪. মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই
৩৫. কিং ময়দা
৩৬. রূপসা দই
৩৭. মক্কা চানাচুর
৩৮. মেহেদী বিস্কুট
৩৯. নিশিতা ফুডস এর সুজি
৪০. মঞ্জিলের হলুদ গুড়া
৪১. গ্রীনলেন মধু
৪২. কিরন লাচ্ছা সেমাই
৪৩. ডলফিন মরিচের গুড়া
৪৪. ডলফিন হলুদের গুড়া
৪৫. সূর্য মরিচের গুড়া
৪৬. জেদ্দা লাচ্ছা সেমাই
৪৭. অমৃত লাচ্ছা সেমাই
৪৮. দাদা সুপার আয়োডিনযুক্ত লবণ
৪৯. মদীনা/স্টারশীপ আয়োডিনযুক্ত লবন
৫০. নুর স্পেশাল আয়োডিনযুক্ত লবন
৫১. তিন তীর আয়োডিনযুক্ত লবন
৫২. তাজ আয়োডিনযুক্ত লবন
এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দের জন্য দেওয়া ২৪ ঘন্টা সময় শেষ হলেও লিগ্যাল নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিটটি করে কনসাস কনজুমার সোসাইটি (সিসিএস)।