• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৮:৪৬

হলিউড দর্শকেরা করোনা পরবর্তী সময়ে হলে যাবে না


বিনোদন ডেস্ক :করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হলিউডে এর প্রভাব নানান মাত্রা লাভ করেছে। 

শুধু টম হ্যাঙ্কস বা ইদ্রিস এলবার মতো তারকা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন নয়। বড় বড় থিয়েটার চেইনগুলো তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। প্রায় তিন মাসের জন্য পিছিয়ে গেছে সিনেমার মুক্তি ও শুটিং।

যে কোনো ইন্ডাস্ট্রির জন্য আয়বিহীন তিন মাস অনেক দীর্ঘ সময়। আর হলিউডে তো একটি সিনেমার নির্মাণ থেকে প্রচারণায় ব্যয় হয় কোটি কোটি ডলার। সে দিক থেকে থিয়েটার ডিস্ট্রিবিউশনে ছেদ মানে বড় ধরনের বিপর্যয়।

এ ঘটনার মধ্যে হোম ভিডিও ও প্রেক্ষাগৃহে রিলিজের পুরোনো তর্ক আবার সামনে এসেছে। কারণ একই দিনে হোম ভিডিওতে রিলিজের ধারণাটিতে বরাবর বাধা দিয়ে এসেছিলেন পরিবেশকরা। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। হলিউডে বেশির ভাগ বড় স্টুডিও’র দখলে আছে ডিরেক্ট টু কনজিউমার স্ট্রিমিং সার্ভিস। এখানে শুধু নিজেদের নির্মাণের ওপরই নিয়ন্ত্রণ থাকে না, পরিবেশনা কৌশলে এসেছে নতুনত্ব।সে হিসেবে আগামী তিন মাসে অনেক এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট এসে যেতে পারে দর্শকের ড্রয়িং রুমে। যেহেতু কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজনের হাতে তেমন কাজ থাকে না, তরতর করে বাড়তে পারে স্ট্রিমিং সার্ভিসের গ্রাহক।

এর মধ্যে হলিউডের কিছু স্টুডিও তাদের পরবর্তী ছবি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঠেকে দিয়েছে। যেমন; ওয়ার্নার ব্রসের ‘বার্ডস অব প্রে’ হোম ভিডিওতে আসবে। এমনকি ইউনিভার্সেলও একাধিক ছবি এই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেবে। এর মধ্যে এসে গেছে অতি সাম্প্রতিক স্লিপার হিট ‘দ্য ইনভিজিবল ম্যান’। থিয়েটারে মুক্তির তিন মাসের মাথায় কোয়ারেন্টাইনকালে অনেকে ডিজনির ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার’ দেখেছেন হোম ভিডিওতে।

এখন তিন মাসের ডিস্ট্রিবিউশন বিরতিতে বড় স্টুডিওগুলোকে হোম ভিডিওতে গ্রাহক টানার জন্য নতুন সিনেমা বেছে নিচ্ছেন। গুজব উঠেছে মার্ভেলের ‘ব্ল্যাক উইডো’র মতো বড় বাজেটের সিনেমা এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিজনি প্লাসে দেখা যাবে। যদি তাই হয়, রাতারাতি এই সার্ভিসটির গ্রাহক বহুগুণ বাড়বে সন্দেহ নেই।  

এমনিতে বড় থিয়েটার চেইনগুলো স্ট্রিমিং সার্ভিসের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা নানা উপায়ে ঘর থেকে দর্শকদের হলে আনতে চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহের তুলনায় বাসায় সিনেমা দেখা অনেক সস্তা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যাধুনিক।

করোনার কারণে তিন মাস বন্ধ থাকায় হোম ভিডিও প্রিমিয়ার নিয়ে স্টুডিওগুলোর সঙ্গে থিয়েটার মালিকদের দর কষাকষির সুযোগ কমে গেছে। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে থিয়েটারে রিলিজের নানা ঝামেলা থেকে বেঁচেও যান নির্মাতারা। যদি এই অভ্যাস দর্শক ও স্টুডিও’র মধ্যে স্থায়ী হয় তবে বিশ্বব্যাপী থিয়েটার চেইনে ধস নামবে। এমন পরিস্থিতির কথা আগে শোনা যায়নি এমন নয়, কিন্তু এবারই তা সত্য হতে যাচ্ছে।

এ দিকে থিয়েটার চেইনগুলোও দর্শক টানতে টানতে বছর বছর নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। থ্রিডি, আইম্যাক্স বা স্ক্রিন-এক্সের মতো বড় মাপের টেকনলজিতে যেতে হয়েছে তাদের। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো সিট, খাবার, পানীয় ও ইন থিয়েটার ডাইন ইন সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় করোনা-পরবর্তী সময়ে থিয়েটার মালিকদের নতুন কৌশল ঠিক করতে হবে।