• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৭:১০

স্বচ্ছ পর্দা থাকা উচিত চোখের চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে


লাইফস্টাইল ডেস্ক: মূলত মুখ, নাক ও চোখ দিয়ে মানুষের দেহে করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চোখের ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে স্বচ্ছ পর্দার ব্যবস্থা করে রোগী দেখা উচিত এ মুহূর্তে। কারণ চোখ হলো মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চোখের মাধ্যমে যেমন একজন আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ থেকে আরেকজনের মধ্যে ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে। তেমনি একজন চোখের সমস্যায় আক্রান্ত একই সাথে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী থেকে চোখের ডাক্তারের দেহে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার সংক্রমিত চোখের ডাক্তারের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোখ করোনাভাইরাস ছড়ানোর একটি উত্তম বাহক। অতএব চোখ দেখাতে আসা রোগী ও চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিয়োজিত চোখের ডাক্তার উভয়েই রোগটি সম্বন্ধে সচেতন হবেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীর জ্বর, হাঁচি ও কাশির সাথে চোখ ফুলে যেতে পারে, চোখ লাল রঙ ধারণ করতে পারে, চোখ থেকে পানি ঝরতে পারে। একই সাথে চোখ ব্যথা হতে পারে। চোখের অসুখ অন্যান্য অসুখের চেয়ে একটু ভিন্ন। এখানে একজন ডাক্তারকে খুব কাছে থেকে চোখের রোগী পর্যবেক্ষণ করতে হয়। প্রতিবার চোখের রোগীর চোখ স্পর্শ করার আগে একজন ডাক্তারকে জীবাণুনাশক দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

চোখের রোগীর যেহেতু খুব কাছে ডাক্তারকে থাকতে হয় সে কারণে রোগী ও ডাক্তারের মাঝখানে একটি স্বচ্ছ পর্দা রেখে রোগী দেখতে হবে। এটা হতে পারে স্বচ্ছ অথচ কঠিন পলিথিনের দেয়াল।
তাহলে ডাক্তার ও রোগী উভয়েই উভয়কে দেখতে পারবেন এবং ডাক্তার রোগীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মানতে যে অঙ্গভঙি প্রদর্শন করে থাকেন তা রোগী দেখতে পারবেন।
রোগী দেখার সময় অবশ্যই চোখের ডাক্তারকে মাস্ক পরতে হবে। রোগীকেও অনুরূপ মাস্ক পরিয়ে ডাক্তারের সামনে বসাতে হবে। কোনোভাবেই কারো শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা কথা বলার সময় লালা অথবা থুথু একে অপরের মুখে অথবা গায়ে যেন না লাগে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র ঘন ঘন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সেই সাথে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার জন্য বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে টেলি মেডিসিন সেবা প্রদান করা যেতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হয়, পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা। সরকারিভাবে না পেলে রোগীর সেবা ও নিজের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিপিইর ব্যবস্থা করে নিতে পারেন একজন চোখের চিকিৎসক। অবশ্য এখন পিপিই পরে সব চিকিৎসকেরই উচিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
সর্বোপরি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে চক্ষু চিকিৎসককে নিজের ও রোগীর কল্যাণার্থে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু), রোগ তত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এবং আমেরিকান একাডেমি অব অবথালমোলজির (এএও) নির্দেশনাগুলো অবশ্যই পালন করবেন।