ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ভোর ৫:২৩
সারা বাংলা

সীমান্তে ভারতীয় গরু আটক

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তে নব্য নির্মিত গাজিপুর সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে ভারতীয় ৪টি গরু পাচারকালে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) লেংগুড়া সীমান্ত ফাঁড়ি’র সুবেদার অসিত নন্দীর নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান চালায়। রোববার সন্ধ্যার পরে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। পরে বারমারী সীমান্ত ফাঁড়ির’র নায়েব সুবেদার মোঃ লিয়াখত আলীর নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযানে যোগ দেন।

সুবেদার অসিত নন্দী মুঠোফোনে জানান, অবৈধভাবে ভারত থেকে আমদানী করা ৭টি গরু গাজিপুর নব্য নির্মিত(চলমান) সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে কালিকাপুর গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর পুত্র সাদির উদ্দিন(৪২) এর আমদানী করা গরু আসছে খবর পেয়ে অভিযান চালাই। ঐ স্থানে পৌঁছা মাত্রই চক্রটি পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। ৩টি গরু খোঁজে পাননি বলে জানা যায়। রাত ৯টার দিকে লেংগুড়া সীমান্ত ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয় গরু গুলিকে। চুরাই গরুর মূল্য প্রায় ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হতে পারে। গরুর সিজার লিষ্ট করে নেত্রকোনা জেলা বিজিবি কার্যালয়ে অকশন প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে তিনি জানান।

কালিকাপুর গ্রামের অসংখ্য স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভারতীয় অবৈধ ব্যবসার ডন নামে খ্যাত সাদির উদ্দিন(৪২) এর আমদানী করা চুরাই গরু,বন্যপ্রাণী তক্ষক,তীর কাউন্টার,জুয়ার আসর,মটর সাইকেল আমদানী,ভারতীয় অন্যান্য পণ্য আমদানী সহ নানান ব্যবসা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তিনি এখন কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে দাবী স্থানীয়দের। প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজী হননি,তার দাপটে এলাকার অনেকে অতিষ্ট জীবন-যাপন করছে। অনেকে আবার সাদির ডাকাত নামে ডাকেন। তার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান তিনি ডাকাতির মামলায় জেল কেটেছেন অনেকদিন। মাদক,ইয়াবা,তীর-কাউন্টার,তক্ষক প্রাণী সহ নানা অপরাধের অভিযোগে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে বেশ’কটি মামলা চলমান রয়েছে।

সরকারের ভারতীয় গরু আমদানী ও অবৈধ পথে গরু চালান বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতির তোয়াক্ষাই করছেনা এই ব্যবসায়ী সম্রাট সাদির উদ্দি। যুব সমাজ ধ্বংসের মূল নায়ক সাদির উদ্দিন এতটাই বেপোরোয়া যে,সে কাউকেই তোয়াক্ষা করে না। নানান জগতের লোকদের সাথে সখ্যতা করে স¤্রাটের দাপটে চালাচ্ছে এসকল অবৈধ ব্যবসা। সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে এ অবৈধ চালান কিভাবে আসে তার আদৌ কোন ব্যাখ্যা আছে কিনা জানতে চায় সচেতন মহল। কবে বন্ধ হবে এসকল অবাধ কার্যক্রম? কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা সাদির গংদের বিরুদ্ধে? অপরাধীর ডন সাদিরের খুঁটির জোর কোথায় জানতে চায় স্থানীয়রা।

সাদির উদ্দিনের এসকল নানান অপরাধের বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তদন্ত-পূর্বক স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্দ্ধতণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট আরজী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবীও করেণ। আর সরকোরের জিরো টলারেন্স নীতি তখনই হাসিল হবে এমন অভিমত সুশীল সমাজের।