• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ২:১২

সিরাজগঞ্জে অবৈধ টুইস্টিং মিল অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : রবিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় টুইস্টিং মিল উচ্ছেদের দাবিতে সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোট ভবনের সামনে মানববন্ধন। টুইষ্টিং মিলের সৃষ্ট শব্দ দূষণের কবলে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের রহমতগঞ্জ ১নংও ২নং গলির বাসিন্দারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণ শক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ প্রতিদিনই রহমতগঞ্জ এলাকার ১নং ও ২ নং গলির ভিতরে ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধি বিধান থাকলেও তার তেমন কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না এখানে।

সরেজমিনে ও এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, রহমতগঞ্জ ১নং ও ২নং গলিতে আব্দুল হান্নান সেখ, ছামাদ সেখ এবং রেজাউল খন্দকার প্রত্যকের ১টি করে মোট তিনটি টুইষ্টিং মিল রয়েছে এছাড়া আব্দুল হান্নান সেখের একটি ড্রাইং কারখানা বা ( সুতা রং করা  কারখানা রয়েছে)। পাশাপাশি অবস্থানরত  তিনটি টুইষ্টিং মিলের বিকট শব্দ দূষণে এলাকার নিরহ মানুষ প্রতিনিয়ত নিরবিচ্ছিন্ন শব্দ দূষণের শিকার হয়ে আসছে। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে ঝর্ণা  টুইষ্টিং মিলের মালিক মো: আব্দুল হান্নান  সেখ টুইষ্টিং মিল চালানোর জন্য ভারী জেনারেটর ব্যবহার করছে।  এতে  মিলের আশপাশের থাকা বাড়িঘরে কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত কম্পনের কারণে  এলাকার বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। যার কারণে বাড়িগুলো ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে।এছাড়া টুইষ্টিং মিলের শব্দদূষণে ও ভারী জেনারেটর শব্দ, কম্পনের  কারণে ছেলে মেয়েদের  পড়াশুনার ক্ষতি, ঘুমে ব্যঘাত, শ্রবণ শক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে টুইষ্টিং মিল মালিক আব্দুল হান্নান শেখ, রেজাউল খন্দকার এবং সিরাজগঞ্জ টুইষ্টিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো:আব্দুল ছামাদ শেখের সাথে রহমতগঞ্জ গ্রামের মুরুব্বিরা শব্দদূষণ  বন্ধের জন্য বেশ কয়েকবার সামাজিক মিমাংসার চেষ্টা করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইতিপূর্বে বেশ কয়েক বছর আগে রহমতগঞ্জ এলাকা থেকে টুইষ্টিং মিল সরানোর  জন্য হান্নান সেখ, ছামাদ সেখ, রেজাউল খন্দকারকে  ছয় মাস সময় নির্ধারণ করেছিলেন (যেন তারা দ্রুত মিলগুলো অন্য জায়গায় স্থানান্তর করে)  কিন্তুু তারা তিন মিল মালিক সহ জোট হয়ে মুরুব্বীদের এবং গ্রামের মানুষদের কথায় কর্নপাত না করায়।  জোরপূর্বক ভাবে সেই সময় থেকে আজ  পর্যন্ত মিল চালিয়ে আসছে। টুইষ্টিং মিলের আওয়াজে রহমতগঞ্জ গ্রামের ১নং ও ২ নং গলির মানুষ শব্দদূষণকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আবাসিক এলাকায় শব্দ দূষণ  যা ক্রমাগত অসুস্থ করে তুলছে বৃদ্ধ ও শিশুদের।

রহমতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো: তোতা শেখ, মো: আজাদ খন্দকার, মো: জাহাঙ্গীর খন্দকার, মো:ফরহাদ মির্জা, মিল্লাত খন্দকার, সোহেল খন্দকার, নান্টু ভুইয়া,ফুলাল খন্দকার, মো:টিটু, কবির খন্দকার, জেলকাত হোসেন, সাগর খন্দকারসহ এলাকার গণ্যমান্য মানুষ বলেন, শব্দদূষণের কুফল বিষয়ে জনসচেতনতা বড়ই অভাব এবং শব্দদূষণ প্রতিরোধে যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারি ও পদক্ষেপের ঘাটতির কারণেই এমনটি হচ্ছে। আমরা এই শব্দ দূষণ থেকে বাচঁতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের এই দাবী রহমতগঞ্জ  সচেতন এলাকা এই এলাকা থেকে তারাতারি টুইষ্টিং মিল গুলো সরিয়ে ফেলে আমাদের বাচার পথ করে দেওয়ার জোরালো আহব্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে উক্ত মানববন্ধন সমাপ্তি করেন।