• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:১২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদ!


জিয়াউর রহমান : যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এখন ফেসবুক। মনের কথা, অভিব্যক্তি নিমিষেই পৌঁছে যায় শত শত বন্ধুর কাছে। এ ফেসবুকই একদিকে যেমন বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট করছে, তেমনি একে ব্যবহার করে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করছে। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে ব্যবহার করে প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকির কথা শোনা যায় হরহামেশায়।

আবার ফেক আইডি খুলে সম্মানি লোকের সম্মানহানি করা হচ্ছে অবলীলায়। ইদানীং অনলাইন কেনা-কাটার নামেও হচ্ছে প্রতারণা। প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা জানাজানিও হচ্ছে। তারপরও মানুষ প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ছেন। আটকে যাচ্ছেন প্রতারণার জালে। ফেসবুকের সহায়তায় গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

প্রতারণার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। প্রায়ই শোনা যায় ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। এক সময় বন্ধুরূপী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অনেককে হারাতে হয়েছে ইজ্জত। শুধু তাই নয়, ইজ্জত খুইয়েই শেষ হয়নি, প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে অনেককে। আবার ফেসবুককে ব্যবহার করে বহু পরিবারকে করা হয়েছে ছন্নছাড়া।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৫৫ শতাংশ নারী এবং ৪৫ শতাংশ পুরুষ। গবেষণায় উঠে আসে, বাংলাদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী, ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ। ছবি বিকৃতের শিকার হন ১২.০৩ শতাংশ নারী, ৩.৭৬ শতাংশ পুরুষ। অনলাইনে হুমকির শিকার ৯.৭৭ শতাংশ নারী এবং এত পুরুষের সংখ্যা ৩.৭৬ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৩৩ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হয়ে সুফল পেয়েছেন। ২৩ শতাংশ ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছেন। আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে চেপে যান ১৭ শতাংশ ব্যক্তি।

গবেষণায় উঠে আসে, দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের শিকার মেয়েদের ৪৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। ১৮ বছরের কম ১৫.৫২ শতাংশ মেয়ে এবং ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ৩০.৭৭ শতাংশ, ৪৫ বছরের বেশি ১০ শতাংশ।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সবাইকে যেমন একসুতায় বেঁধেছে, বুঝতে না পারলে এখানে ভয়াবহ প্রতারণায় পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা যেমন এখানে ঘটে, কারো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার কথা সহসাই শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলেছেন। বিশেষ করে প্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শও তাদের।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানান ছবি বিকৃতির কথা। তার আইডি হ্যাক করে তার ছবির মুখের অবয়ব রেখে নিচে অশ্লীল অংশ জুড়ে দেয়া হয়। ক্যাপশনে তার নম্বর দিয়ে আপত্তিকর আহ্বান জানানো হয়। পরে তিনি বড় বোনের ফোন থেকে ঢুকে দেখেন এবং পরিচিতজনদের মাধ্যমে রিপোর্ট করিয়ে ব্লক করে দেন।

তিনি বলেন, এমনি অবস্থা হয়েছিল না পারতাম কাউকে বুঝাতে না পারতাম ফোন রিসিভ করতে। পরে নম্বর পরিবর্তন করে ফেলি। কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। নতুন নম্বরেও ফোন আসা শুরু হয়। পরে বুঝতে পারি এটা পরিচিত কারো কাজ। এভাবে অনেক দিন মোবাইল বিহীন থাকার পর এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহায্য না নেয়ার কারণ হিসেবে বলেন, বিষয়টি থেকে আমি মুক্তি চাইছিলাম আর কোনো ঝামেলার মধ্যে পড়তে চাচ্ছিলাম না।

আরেক শিক্ষার্থীর নামে এত পরিমাণ ফেইক আইডি ছিল যে রিপোর্ট করে ব্লক করতে করতে বিরক্ত। আইডি ব্লক করা গেলেও একটা পেইজ কিছুতেই ব্লক করতে পারছেন না। তিনি বলেন, পেইজে আজেবাজে কিছু পোস্ট দেয়া হয় না। কিন্তু কখন কি পোস্ট দিয়ে ফেলে এই নিয়ে সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় থাকি। তিনি বলেন, খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ফিরিয়ে দেয় জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে।

রাজধানীর এক স্কুলের শিক্ষিকার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে শিক্ষিকার বানানো পর্ণো ছবি আপলোড করে দেওয়া হয়। অশ্লীল স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষিকার মোবাইল ফোন নম্বরও দিয়ে দেয়। সেখানে লিখা হয়, ‘প্লিজ কল মি’। এ নিয়ে তোলপাড় হয় সর্বত্র। ৩৫তম বিসিএস উত্তীর্ণ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহকারী সচিবের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পর্নো ছবি ফেসবুক আপলোড করে মোবাইল ফোন নম্বর দেয়া হয়। নানান প্রতারণা মূলক মিথ্যা স্ট্যাটাস দেয়া হয়।

আরেকদিকে আইডি হ্যাক করে বিকাশে টাকা চাওয়া, তথ্য চুরি করা, অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেবার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।