• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৫৬

সাপের কামড়ে বছরে অন্তত ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু!


বিষধর সাপের কামড়ে পৃথিবীতে প্রতিবছর কমপক্ষে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)৷ এর বাইরে চার লাখ লোক প্রতিবন্ধিত্ব বরণ করেন সাপের কামড়ে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

ডাব্লিউএইচও বলছে, প্রতিবছর ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭০ হাজারের মতো মানুষ সাপের কামড় খেয়ে থাকেন৷ এর মধ্যে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার জনের মৃত্যুর হিসাব বিভিন্ন পরিসংখ্যানে পাওয়া যায়৷

তবে সঠিক হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি বলেই মনে করছে ডাব্লিউএইচও৷ আর চিকিৎসা ও অ্যান্টি-ভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই বেশি৷

সাপের কামড়ে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিত্ব কমিয়ে আনতে ২০৩০ পর্যন্ত মেয়াদে একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডাব্লিউএইচও৷ ‘‘পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, অ্যান্টি-ভেনম ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসায় মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও সহজলভ্য অভিগম্যতা নিশ্চিত করা৷ এতে অ্যান্টি-ভেনম উৎপাদন ও সরবরাহকে প্রাধান্য দেওয়া হবে,’’ বলা হয়েছে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে৷

সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যার হিসাব না রাখায় এ ধরনের মৃত্যুর সঠিক হিসাব জানা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ কারণ, হাসপাতালের বাইরে যাঁরা মারা যান, তাঁদের হিসাব পাওয়া দুরুহ৷

সাপের ছোবলের কারণে মৃত্যুর সংখ্যার ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় ভারতের একটি গবেষণা থেকে৷ ওই গবেষণায় বেরিয়ে আসে, ২০০৫ সালে ভারতে সাপের কামড়ে ৪৫,৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ আর এই সংখ্যাটি ছিল সরকারি হিসাবের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি৷

মৃত্যুর সংখ্যা বেশি উন্নয়নশীল দেশে

সাপের কামড়ে এভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু সম্পর্কে একবার জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান বলেছিলেন, ‘‘এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট, যা আপনি কখনো শুনবেন না৷’’

উন্নত দেশে সাপের দংশনে মৃতের সংখ্যা দেখলে তাঁর এই বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়৷ কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মাত্র ৫ জন লোক মারা যান সাপের কামড়ে৷ আর পশ্চিমা অনেক দেশে সাপের কামড়ে মৃত্যুর বিষয়টি কল্পকাহিনীর মতোই৷

ডাব্লিউএইচও বলছে, সাপের কামড়ে বেশির ভাগ লোক মারা যায় সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়৷ কারণ, সেখানে চিকিৎসা-সেবা অতটা পর্যাপ্ত নয়৷ আর ৮০ শতাংশের মতো লোক নিজেরাই সাপের কামড় খেয়ে স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্বারস্থ হন৷

এদিকে, বিষধর সাপের এলাকায় অ্যান্টি-ভেনম উৎপাদনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদেরকে সেটার জন্য পশ্চিমা দেশের মুখাপেক্ষী হতে হয়৷ আর দাম বেশি হওয়ায় ওষুধ থাকে মানুষের আওতার বাইরে৷ এটাকে সাপের কামড়ে মৃত্যু বাড়ার কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে ‘ডক্টর উইদাউট বর্ডার্স’৷

আবার দুর্গম ও দুরবর্তী এলাকার মানুষ খুব দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারেন না, যা সাপেড় কামড়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন৷ এ কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷