• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১২:৪৩

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ


সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপরে টানা আড়াই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় আশেপাশে তীব্র যানজটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচির শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় অধিভুক্তির কারণে সাত কলেজের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন উল্লেখ করে অবিলম্বে অধিভুক্তি বাতিল করার দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, অধিভুক্তি বাতিল করা, দুই মাসের মধ্যে সকল ধরনের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা, ক্যাম্পাসে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা।

এসময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন এবং ‘সাত কলেজের রেজাল্টে গলদ, ঢাবি হলো কলুর বলদ’ ‘ঢাবির বাস আটকায় কে? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শোন বোন শোন ভাই, ঢাবির কোনো শাখা নাই’ ‘রাখতে ঢাবির সম্মান সাত কলেজ বেমানান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন: আমাদের এই আন্দোলন ২০১৮ থেকে করে আসা সত্ত্বেও প্রশাসন এই ব্যাপারে কোন কর্ণপাত করছে না। গত মঙ্গলবার ছিল আমাদের আল্টিমেটামের শেষ দিন। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি মানে নি। ডাকসু আমাদের আশ্বাস দিলেও কথা রাখে নি। তাই আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাধারন শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে আছে। আমরা চাই এই অধিভুক্তি খুব দ্রুত বাতিল করে ঢাবি তার সম্মান এবং গৌরব ফিরিয়ে আনবে। সাত কলেজের কারণে মাঝে মাঝে নিজেদের পরিচয় সংকটে পড়তে হয় বলে জানান আরেক শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, অনেকে জিজ্ঞাসা করে ঢাবির কোন শাখায় পড়ি। এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের মতো। ঢাকা কলেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনোদনস্থল এবং মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহার করে। প্রশাসনিক কাজ করার জন্য আমাদের রেজিস্ট্রার ভবন আমাদের জন্যই যথেষ্ট না। সেখানে সাত কলেজ কিভাবে সামলাব আমরা?

কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষার্থী মিফতু মৌ বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রাণের দাবি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রশাসন কেন আমাদের কথা না শুনে সাত কলেজের প্রতি এত প্রেম দেখাচ্ছে সেটাই আমরা বুঝি না।

আমরা প্রশাসনকে অনেকবার এই বিষয়ে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা কানে নিচ্ছে না। ডাকসু শুধু আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজ করছেন না।