• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:৫৩

সতর্ক হোন পরিবারের সদস্যদের বিপন্ন করবেন না:সাকিব আল হাসান


অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে আছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই তারকা জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথন গোপন করায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। বৈবাহিক সূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার পাওয়া সাকিব বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। এয়ারপোর্টে নেমেই তিনি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা ভেবে বাসায় না গিয়ে উঠেছেন একটি হোটেলে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি ভিডিও বার্তায় বিমর্ষ সাকিব জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।

ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘আশা করি সবাই ভালো আছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও বেশ কয়েকজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের সতর্কতাই পারে আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে। আমাদেরকে সুস্থ রাখতে। কিছু সহজ পন্থা অবলম্বন করলে আমরা এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারব। যেমন—সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় সঠিক শিষ্টাচার মেনে চলা এবং যদি কেউ বিদেশফেরত থাকেন তাহলে নিজেকে ঘরে রাখা এবং ঘর থেকে বাইরে না যাওয়া। আরেকটি ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে—আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব কেউ যেন এসে আপনার সঙ্গে দেখা করতে না পারে; এটা খুবই জরুরি। আমি একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি। আমি মাত্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছেছি।

যদিও বিমানে ভয় কাজ করেছে একটু হলেও। তার পরও চেষ্টা করেছি কিভাবে নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ল্যান্ড করার পর আমি সোজা একটি হোটেলে উঠেছি এবং ওদেরকেও অবগত করেছি যে আমি এখানে থাকব কিছুদিন। আমি যেহেতু ফ্লাই করে এসেছি, আমার একটু হলেও রিস্ক আছে। এ জন্য আমি নিজেকে আলাদা করে রেখেছি, সে জন্য আমি আমার বাচ্চার সঙ্গেও দেখা করছি না।

এখানে এসেও আমি আমার বাচ্চাকে দেখতে পাচ্ছি না, এটা অবশ্যই আমার জন্য খুব কষ্টদায়ক একটা ব্যাপার। তার পরও আমার মনে হয়েছে, এই সামান্য স্যাক্রিফাইসটুকু করতে পারলে আমরা অনেকদূর এগোতে পারব। এই কারণেই আমাদের দেশে যাঁরা এখন বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন, অনেকেই এসেছেন আমি জানি। নিউজের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমাদের দেশে অনেক মানুষ এসেছেন বিদেশ থেকে। আমাদের দেশেরই মানুষ তাঁরা। যেহেতু তাঁদের ছুটির সুযোগ কম থাকে, সে জন্য তাঁরা চান দেশে এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, ঘোরাফেরা করতে, আড্ডা দিতে, কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে। যেহেতু সময়টা অনুকূলে না, আমি সবাইকে অনুরোধ করব, সবাই যেন এই নিয়মগুলো মেনে চলেন। কারণ আমাদের সামান্য এই স্যাক্রিফাইসই পারে আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে। আশা করি সবাই আমার এই কথাগুলো শুনবেন এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছে, এগুলো সম্পর্কেও অবগত হবেন এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।’

‘আর একটা কথা অবশ্যই বলতে চাই, কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমার মনে হয় না এটা কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারবে। আমি খবরে দেখেছি, অনেকে তিন, চার, পাঁচ বা ছয় মাস পর্যন্তও খাবার সংগ্রহ করছেন। আমার ধারণা, খাবারের সংকট কখনোই হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা কেউ না খেয়ে মারা যাব না। তাই আমরা আতঙ্কিত না হই। আমাদের সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আমাদের এর থেকে রক্ষা করতে। এবং সেটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব। আশা করি সবাই ভালো থাকবেন এবং প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভ্রমণ বা বাড়ির বাইরে বের হবেন না।’