• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৮:৪৬

শ্বশুরের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জামাই গ্রেফতার


নতুন কাগজ ডেস্ক: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নদীতে হাসেন আলী (৫০) নামের একজনের মাথাহীন দেহ ও ইসলামপুর থেকে মাথা উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের জামাই খোরশেদ আলম (২৪)-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি খোরশেদ আলম জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
ইসলামপুর সাকের্লের এএসপি সুমন মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মৃত হাসেন আলীর মেয়ের স্বামী ও তার জামাই খোরশেদ আলম (২৪)-কে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও মামলার ২ নং আসামি আব্দুল হালিম (৩৫), ৪ নং আসামি লাল চান ও ৬নং আসামি হাফেজ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এএসপি সুমন জানান, ২৮ আগস্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় শ্বশুর হত্যার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জামাই খোরশেদ। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা নৌকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্রহ্মপুত্র নদের পড়ে নৌকাটি মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
এলাকাবাসী জানায়, ৪ আগস্ট সকালে কাঙ্গালকুর্শা গ্রামে ব্রক্ষপুত্র নদের কিনারায় ভাসমান অবস্থায় একটি মাথাবিহীন লাশ পায় মেলান্দহ থানা পুলিশ। এরপর লাশের মাথা খুঁজতে থাকে ইসলামপুর থানা পুলিশ। সেদিন দুপুরেই ইসলামপুর পলবান্ধা ইউনিয়নের চরচাড়িয়া ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পাড়ে দেহবিহীন একটি মাথা পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। মেলান্দহ থানায় মাথাবিহীন দেহ ও ইসলামপুর থানায় দেহবিহীন মাথা দেখে লাশটিকে নিজের পিতার বলে শনাক্ত করেন গোয়ালের চর ইউনিয়নের সভুকুড়া গ্রামের মো. সুন্দর আলী। এরপর তিনি বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি খোরশেদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শ্বশুর হাসেন আলী সঙ্গে তাদের ছাগল নিয়া ঝগড়া হয়। এই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে হাসেন আলী আদালতে তার তার বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও তার মেয়েকে (খোরশেদের স্ত্রী) নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। এর জের ধরেই শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
২ আগস্ট রাতে মীমাংসার কথা বলে শ্বশুরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১২টার দিকে হাসেন আলীকে ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে কাশবনের জঙ্গলের ভেতর নিয়ে হত্যা করা হয়।

নতুন কাগজ/আরকে