• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:০৪

শেয়ারবাজারের পতন দিয়ে রোজা শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক;
সরকার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ৮৫৬ কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় শেয়ারবাজারে বড় উল্লম্ফন দেখা দিলেও তা টেকসই হয়নি। বরং শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দিয়েই শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস।

রোজার প্রথমদিন মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এ নিয়ে টানা দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হলো।

গত বৃহস্পতিবার শেয়ারাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ৮৫৬ কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর রোববার শেয়ারবাজরে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সব থেকে বড় উত্থান হয়।

তবে পরের কার্যদিবসে এসেই ছন্দপতন ঘটে। বড় উত্থানের পর সোমবার দেখা দেয় বড় দরপতন। মঙ্গলবারও পতনের সেই ধারা অব্যহত থাকায় টানা দুই কর্যদিবস বড় দরপতন দেখলো শেয়ারবাজার। এর মাধ্যমে রোজার আগের শেষ কার্যদিবস এবং রোজার প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতন হলো।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখীতায় শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের সময় আধাঘণ্টা পার না হতেই ঘটে ছন্দ পতন।

সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে লেনদেনে অংশ নেয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন ঘটতে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে দুই কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমলো ১০৪ পয়েন্ট।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের এই পতনের দিনে ডিএসইতে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দাম।

এদিন মূল্যসূচক ও সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দর পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। আজ দিনভর ডিএসইতে মাত্র ৪৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৬৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

লেনদেন কমার দিনে ডিএসইতে টাকার অংকে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির মোট ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে পাওয়ার গ্রিড এবং ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

এছাড়া লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- এস্কয়ার নিট কোম্পাজিট, মুন্নু সিরামিক, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ন্যাশনাল টিউবস, ন্যাশনাল পলিমার এবং গ্রামীণফোন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ১০৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট। লেনদেন অংশ নেয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ১৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির।