• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ২:৩৩

‘শিক্ষকদের অনিয়ম আমাকে মর্মাহত করে’


নতুন কাগজ ডেস্ক: সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের আচার্য মো. আবদুল হামিদ।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘একজন শিক্ষককে আদর্শ ও ন্যায়-নীতির প্রতীক হতে হয়। কিন্তু, সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে প্রকাশিত খবর আচার্য হিসেবে আমাকে মর্মাহত করে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে লবিংয়ে ব্যস্ত। অনেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটি অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর। সাধারণ মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনেই দেখতে চান। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন না।’
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘটা কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর। শিক্ষকের কথা কেবল বক্তৃতা নয়, তা বাণী। বাণী শ্রোতার বুদ্ধি ও বিবেককে জাগ্রত করে। বাণী শ্রোতার অন্তরে জ্ঞানের মশাল প্রজ্বলিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় মূলত জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্র। এখানে নিরন্তর গবেষণার মধ্য দিয়ে নবতর জ্ঞান ও বহুমুখী সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু কিছু ঘটনা এই মূল্যবোধের বিকাশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা যেন এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকি এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের পীঠস্থান হিসেবে সমুন্নত রাখি।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বলেন, ‘তোমরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত ইতিহাসের কথা মনে রেখে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে গ্র্যাজুয়েটরা নিজেদের নিয়োজিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করেন।
বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। সাড়ে ৩টায় জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপতি গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন।

নতুন কাগজ/আরকে