ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

রাত ৪:৪৮
টপ স্লাইডবিশেষ প্রতিবেদন

শর্ত ভেঙ্গে কোরবানির পশুর হাট প্রস্তুত

তরিক শিবলী:ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে এবার দুই সিটি করপোরেশনের ২৪টি পশুর হাট বসতে যাচ্ছে।আর এসব হাট বসানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি-ডিএসসিসি)।

হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৪টি হাট থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৭ আগস্ট থেকে এসব হাটে পশু বেচাকেনা শুরু হবে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। এদিকে, হাট প্রস্তুত করতে ৫ ও ৬ আগস্ট ইজারাদারদের সময় দেওয়া হয়েছে।
উত্তর সিটির স্থায়ী গাবতলীর হাট ছাড়া ৯টি হাটের সর্বোচ্চ দর ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৬ টাকা। আর দক্ষিণ সিটির ১৪টি হাটের সর্বোচ্চ দর ৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ২৩টি হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে ২২ কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৭ টাকায়।

হাট নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদারদের মধ্যে হাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০০ ফিট সড়কের হাটটির টেন্ডার আহ্বান করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর দেওয়া হয়নি। আর আফতাব নগরের পশুর হাট দুই সিটির এলাকার মধ্যে হওয়ায় এটি দুই করপোরেশনই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ৮ বা ৭ তারিখে চাইলে ব্যবসায়ীরা হাটে পশু নিয়ে আসতে পারেন। হাট যেনো কোনোভাবেই সড়কে চলে না আসে বা ব্যবসায়ীরা যেনো হাটের বাইরে সড়কে পশু নিয়ে বসতে না পারেন, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে। হাট থেকে যেনো কোন রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি হতে না পারে, সেজন্য আমরা পশু সম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি হাটে চিকিৎসকের ব্যবস্থা করেছি। হাট এবং এর আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশকেও বলা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কাজ করবে।
আদিকে শর্ত ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কোরবানির পশুর হাটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ইজারাদারেরা। সেখানে গর্ত খোঁড়া–ভরাট করা, মাটি-বালু ফেলে মাঠ সমান করা, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া, খাবার হোটেল বসানোর কাজ পুরোদমে চলছে।

গতকাল হাটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ইজারাদারের লোকজন হাটের বিভিন্ন কাজের তদারকি করছেন। শ্রমিকেরা গর্ত খুঁড়ছেন, বাঁশ–কাঠ কাটা হচ্ছে, মাটি–বালু ফেলে উঁচু–নিচু জায়গা সমান করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, ওয়াচ টাওয়ার করা হচ্ছে। খাবার হোটেল তৈরিতে ব্যস্ত কিছু শ্রমিক।
উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী পশুর হাটের কাজ করছিলেন ইজারাদারের লোকজন। ওই হাটের ইজারা পেয়েছেন তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক নুর হোসেন। শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা কেউ সরাসরি ইজারাদারের লোক নন। তারা বাঁশমালিকের কাজ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে করছেন। পরে শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নুর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বছিলা ও উত্তরা ১৫ নম্বর অস্থায়ী হাট দুটি যথাক্রমে মোহাম্মদপুর ও তুরাগ থানায় পড়েছে। মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফুল ইসলাম ও তুরাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা কেউ সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে লিখিত কোনো চিঠি বা নির্দেশনা পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেবেন।