• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:১২

শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ বদলি ৮


নতুন কাগজ ডেস্ক: মাঠ পর্যায়ে রোহিঙ্গা বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মাদ আবুল কালামকে বদলি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক মো. মাহবুব আলম তালুকদার।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ অধিশাখার উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উভয় কর্মকর্তাকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মোহাম্মদ আবুল কালাম নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে ব্যর্থ হলে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।
পৃথক আদেশে আরও সাত জন ক্যাম্প ইনচার্জকেও (সিআইসি) বদলি করা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে যখন রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয় তখন শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার ছিলেন মোহাম্মদ আবুল কালাম।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যে ২৬টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে এগুলোর পরিচালক হচ্ছেন কমিশনার। এছাড়া প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
৭ ক্যাম্প ইনচার্জকে বদলি: কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, পৃথক আদেশে ৭টি ক্যাম্পের ইনচার্জকেও (সিআইসি) বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ শামীমুল হক পাভেল, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুল ওয়াহাব রাশেদের নাম পাওয়া গেলেও বাকিদের জানা যায়নি।
বদলির আদেশ পাওয়া সিআইসি শামিমুল হক পাভেলের বিরুদ্ধে ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা শরণার্থী সমাবেশের অনুমতি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। একইদিন বিতর্কিত এসিআইসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকেও বদলি করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম সহ ৮জনকে বদলী করা হয়েছে জানতে পেরেছি। তবে কী কারণে বদলি করা হয়েছে তা আমি জানি না।
একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা শিবিরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠায় এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এনজিওকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া, রোহিঙ্গাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাসমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। এ সমাবেশের কারণে সারা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে। এ নিয়ে খোদ সরকারও বিব্রত অবস্থায় পড়ে। সমাবেশ ও প্রত্যাবাসন বিরোধে জড়িতসহ নানা অভিযোগে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে কর্মরত ৪১টি এনজিওকে নিষিদ্ধ করে সরকার।

নতুন কাগজ/আরকে