• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:০১

লক্ষ্মীপুরে কমেছে আখের আবাদ, দাম নিয়ে শঙ্কা


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ভালো ফলন হলেও দাম কম পাওয়ায় আখ চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের আখ চাষিরা। চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ১৭২ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে। যা গত বছর থেকে ৪৮ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর জমিতে আখ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও ১৭২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আশ্বিন মাসে নতুন করে আখচাষ শুরু করা হলেও ভালো ফলনের জন্য কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে চারা রোপণ করা ভালো। প্রথমে জমির মাটি ১ ফুট গর্ত করে পাশে তিনফুট রেখে মাটির সাথে বিভিন্ন সার মিশিয়ে ভালোমত চেলে আখের চারা রোপণ করা হয়। পরের বছর শ্রাবণের শেষ এবং ভাদ্রের শুরু থেকে আখ বিক্রির উপযুক্ত হয়। আখ চাষের জন্য এ অঞ্চলের কৃষকরা বিশেষ করে পাটের জমিই বেছে নেন। আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। কম পরিশ্রমে ও অল্প ব্যয়ে অধিক ফলন পাওয়ায় কৃষকরা আখ চাষ করলেও ভালো দাম না পাওয়ায় আখ চাষিদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখানকার কৃষকরা চলতি মৌসুমে ২০৮ ও সুরেশ্বর এ দুইটি জাতের আখের আবাদ করেছেন। এছাড়া একটি আখের চারা থেকে নতুন নতুন চারা গজিয়ে আখ ক্ষেত ভরে যায়।  সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের রসুলগঞ্জ গ্রামের আখ চাষি জামাল মিয়া। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৩০ শতক জমিতে তিনি সুরেশ্বর জাতের আখ চাষ করেছেন। আকারভেদে পাইকারি ১০০ আখ দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। যা গত বছরের তুলনায় পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল গ্রামের আখ চাষি মো. আবু ছিদ্দিক জানান, সুরেশ্বর জাতের আখ মিষ্টি হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় তিনি চলতি মৌসুমে ৩০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছেন। জমি তৈরি, চারা রোপণ, কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে তার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্ষজীবী ফসল আখ চাষ করা হলেও উৎপাদনের তুলনায় দাম কম পেলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যায়। চলতি মৌসুমে আখের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন জানান, আখ চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হলেও সরকারিভাবে তাদের বীজ ও সার দেয়া হলে চাষিদের আখ চাষে আগ্রহ আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।