• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৯:০০

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানই কাম্য


 মো: সাহেদ: রোহিঙ্গা সংকট অনেক পুরানা। ১৯৭৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দ্বারা যে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে মাটিতে যেভাবে মেশানো হয়েছে, তা দেশটি কোনোভাবেই লুকিয়ে রাখতে পারেনি। বিগত দুই বছরে বিশ্বের বহু দেশের স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের তদন্তে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, গণবাস্তুচ্যুতির মাত্রা দেখে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযানে ‘জেনোসাইডের আলমত’ থাকার কথা বলেছেন।

রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর জেনোসাইড ও অন্যান্য নিপীড়ন চালানোর দায়ে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির পক্ষে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট মুসলিম রাষ্ট্র গাম্বিয়া গত মাসে আইসিজেতে মামলা করে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলায় সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। আইসিজেতে মিয়ানমারের বিপক্ষে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ সরাসরি কোনো পক্ষ নয়, তবে গাম্বিয়ার পক্ষে এ ব্যাপারে লজিস্টিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ। আজ থেকে তিন দিনের শুনানিতে আইসিজের ১৬ জন বিচারকের প্যানেল রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ‘অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার’ আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করবে। শুনানি শেষে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বহন করা সম্ভব নয়। নিকট ভবিষ্যতে এই চ্যালেঞ্জ আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে  আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতে  বিচারের মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান হোক—আমরা তাই চাই।