• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৩:৩২

রোমাঞ্চকর লাউয়াছড়া


A beautiful road lined with majestic, old trees at Lawachara National Park outside Srimongal, Bangladesh.

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য আদর্শ এক স্থান বলা চলে। সিলেটে যারা বেড়াতে যান প্রায় সবাই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে আসতে ভুলেন না। জীববৈচিত্র্যর দিক থেকে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সমৃদ্ধতম বনগুলোর একটি। আয়তনে ছোট হলেও এ বন দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রানীর এক জীবন্ত সংগ্রহশালা।

বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় (ঐড়ড়ষড়পশ এরননড়হ) উল্লুকসহ বেশ কয়েক প্রকার জন্তু ও মূল্যবান গাছ-গাছালির মোটামুটি নিরাপদ আবাসস্থল হলো কমলগঞ্জের এই লাউয়াছড়া। লাওয়াছড়া বনের ভেতর চায়ের দোকানে আছে সাত স্তরের চা। বনে প্রবেশের সাথে সাথেই নানা ধরনের বন্যপ্রাণী, পাখি এবং কীটপতঙ্গের শব্দ শোনা যায়। বনের মধ্যে প্রায় সারাক্ষণই সাইরেনের মত শব্দ হতে থাকে; প্রকৃতপক্ষে এটি এক ধরণের ঝিঁঝিঁ পোকা শব্দ। লাউছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বনের গভীরে যদি চুপচাপ অপেক্ষা করেন তবে বন মোরগ, বানর, খরগোশ, হনুমান, নানা প্রজাতির পশুপাখির দেখা পেতে পারেন। এসব প্রাণী দেখতে বনের একটু গভীরে যেতে হয়। তবে খুব বেশি ভেতরে যেতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। লাউয়াছড়ায় আছে বিরল প্রজাতির এশিয়ার (এখানকার এক কর্মীর কথামত) একমাত্র ‘কোরোফর্ম’ গাছ। এ বনে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী (ঐড়ড়ষড়পশ এরননড়হ) উল্লুকের বসবাস। দুর্লভ এ প্রাণীটি বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমার ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এখন দেখা যায় না। বনের মধ্যে কিছু সময় কাটালেই উল্লুকের ডাকাডাকি কানে আসবে। উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছোবাঘ, বন্য কুকুর, ভাল্লুক, মায়া হরিন (বার্কিং ডিয়ার), অজগরসহ নানা প্রজাতির সাপ ও জীবজন্তু। উদ্যানের বন্য পাখির মধ্যে সবুজ ঘুঘু, বন মোরগ, তুর্কি বাজ, ঈগল, হরিয়াল, কালোমাথা টিয়া, কালো ফর্কটেইল. ধূসর সাত শৈলী, পেঁচা, ফিঙ্গে, লেজকাটা টিয়া, কালোবাজ, হীরামন, কালোমাথা বুলবুল, ধুমকল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বনের ভেতর অনেক ছোট-বড় পাহাড়ী ঝিরি রয়েছে। সেসব ঝিরিতে ছোট ছোট মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ নানারকম ছোট জলজ প্রানী আছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গা ঘেষে রয়েছে ৩টি আদিবাসী পল্লী। আদিবাসি ২টি খাসিয়া (মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া) ও ১টি ত্রিপুরাদের পাড়া। খাসিয়ারা বন ও প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে গড়ে তুলেছে তাদের আবাস। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সাধারণত পাহাড়ি কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে যা সাধারণের থেকে অনেক আলাদা। আদিবাসিদের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ইত্যাদি দেখাও পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা। তাদের প্রধান পেশা পান চাষ। পাড়া প্রধাণের অনুমতি নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন তাদের পানবাগান আর ঘরবাড়ি। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য় আর পশু পাখিদের কল কাকলী উপভোগ করতে ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসেন এখানে। লাউয়াছড়ায় আপনি যেতে পারেন বছরের যেকোন সময়। তবে যারা বৃষ্টি ভালবাসেন তাদের জন্য বর্ষার সময়টাই উৎকৃষ্ট। বনের গভীরে কোন খাসিয়া ছাউনিতে বসে গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়ার শব্দ যে কেউ বলবে, কি অপার সুন্দর এই পৃথিবী!