• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:৪৫

রেবেকা সুলতানা পলির নশৃংস হত্যাকারী লম্পট এ.কে খানের ফাঁসির দাবিতে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্রী রেবেকা সুলতানা পলি’ র নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ ১০ অক্টোবর, সকাল সাড়ে দশটায় মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদে এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। উক্ত সভায় সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ নুরুননবী’ র সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি আবদুল জলিলের সঞ্চালনায় সভায় মরহুমা রেবেকার শ্রেণী শিক্ষক মোঃ ইউচুফ তার স্মৃতিচারণ বক্তব্য রাখেন।

সভায় মরহুমার মামা মোঃ আবদুল মুনাফ পলির নৃশংস খুনের বর্ণনা দেন। এ সময় সভাজুড়ে উপস্থিত শিক্ষকমণ্ডলী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। শোকাহত চোখ যেন নির্বাকচিত্তে শুধু বলছিলো, রেবেকা শুধু রাসেল রানা র বোন নয়, সে আমাদেরও বোন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জায়নুল আবদিন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে রেবেকার গুইমারা মাদরাসায় অধ্যয়নকালীন মধুর স্মৃতি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে রেবেকা পারিবারিক কারনে গুইমারাস্থ ডাক্তারটিলার বসতভিটা ছেড়ে চট্টগ্রামে তার মা ছখিনা খাতুন ও একমাত্র ভাই চট্টগ্রাম মহসিন কলেজে অধ্যয়নরত এবং উক্ত সংগঠনের ক্রীড়া সম্পাদক রাসেল রানা- দাখিল ২০১১ ব্যাচ এর সাথে বসবাস শুরু করে। নগরীর বন্দর থানাধীন হালিশহর আহমদ মিয়া সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে সে অধ্যয়নরত ছিলো। তার পিতা ফিরোজ খান একজন প্রবাসী এবং মা চাকুরিজীবী ও বড় ভাই বেশিরভাগ সময় পড়ালেখার কারনে বাসার বাইরে থাকার সুযোগে বাড়ির মালিক লম্পট এ.কে খানের কুনজরে পড়ে। গত ০২ অক্টোবর রেবেকা বাসায় অবস্থানকালীন সময়ে আসামী তাকে ধর্ষণ পূর্বক পরবর্তীতে নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়ে যায়। আসামী ধরা পড়লেও বিত্তবান ও প্রভাবশালী হওয়ায় রেবেকার পরিবারসহ সকলেই ন্যায় বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, খুনি এ.কে খানের মতো এ সমাজে আরো অনেক লম্পট ভালো মানুষের মুখোশ পরিধানকারীর হাতে আমাদের বোন রেবেকার মতো পরবর্তী শিকার হতে পারে। তাই, আমাদের উচিৎ সচেতন হওয়া এবং রেবেকার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হওয়া। নচেৎ রেবেকার মতো অনেক শিক্ষার্থী বোন লালসার শিকার হয়ে একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।

সভায় দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন, মাদরাসার সহঃ সুপার মাওলানা আ.ন.ম রফিকুল ইসলাম। শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা খোরশেদুল আলম, জসিম উদ্দিন, শামসুল আলম, মোহাম্মদ উল্লাহ,জামাল উদ্দিন ও মাস্টার বাবুল হোসেন সহ প্রমূখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সম্পাদক নুরুননবী, আরিফুল হক, আনিসুর রহমান (ঢা.বি), আমির হামজা (চ.বি),সদস্য সাইফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন,ওমর ফারুকসহ সদস্যবৃন্দ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব রেড ক্রিসেন্টের গুইমারা ইউনিটের যুবপ্রধান মীর বাবলুসহ সাংবাদিক বন্ধুগন। সভাশেষে মরহুমার কবর জিয়ারত পরিচালনা করেন মাওলানা খোরশেদ আলম। সভায় রেবেকার প্রাক্তন সহপাঠীরাসহ মাদরাসার দুই শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।