• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১০:৩৯

রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের কথা জানালেন মিন্নি


বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার মিন্নির মা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেসময় তাদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেন মিন্নি। মেয়ের মুখ থেকে শোনা নির্যাতনের ঘটনা সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নির মা জিনাত জাহান।

তিনি বলেন, এএসআই রিতার নেতৃত্বে মিন্নির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। মিন্নিকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ১২-১৩ ঘণ্টা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পুলিশ লাইনে একটি কক্ষে এএসআই রিতার নেতৃত্বে ৪-৫ জন পুলিশ তার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। এ সময় পানি পান করতে চাইলেও তাকে পানি দেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তার দেখানোর পরে রাতে পানির সঙ্গে ইয়াবা ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে খেতে দেওয়া হয়েছে। একটি সাদা কাগজে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তাকে মুখস্থ করতে পুলিশ বার বার চাপ দিয়েছে। যতক্ষণ মুখস্থ বলতে না পেরেছে ততক্ষণ পর্যন্ত রিতা ও তার সহযোগীরা তাকে নির্যাতন করেছে। পুলিশ মিন্নিকে ভয় দেখিয়ে বলেছে লিখিত বক্তব্য আদালতে না বললে তার বাবা-মা ও চাচাদের ধরে আনা হবে।

গত ২৬ জুন মিন্নির স্বামী রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তদন্তের পর পুলিশ জানায় মিন্নিও এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

উল্লেখ্য আসামি মিন্নির জামিন আবেদনের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। এই জামিন শুনানিতে অংশ নেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

হাইকোর্টে আজ সোমবার মিন্নির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। মিন্নির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও জামিউল হক ফয়সাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।

মিন্নির পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালতকে বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা। এ মামলায় আমি চাক্ষুষ সাক্ষী অথচ মামলার ১২ নম্বর আসামির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে আসামি করা হয়েছে। অবশ্যই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা।’
এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের কাছে সময় আবেদন করে বলেন, এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল বক্তব্য রাখবেন। এ জন্য সময় প্রয়োজন। পরে এই জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন আদালত।