• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৩:৫০

রামেকে নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ইউনিট


রাজশাহী ব্যুরো : নবজাতক শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থাপন করা হচ্ছে স্পেশাল কেয়ার নিউরর্ন ইউনিট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে এ ইউনিটে থাকছে এনআইসিইউ, স্টেপ ডাউন, সেপটিক এরিয়া বেডসহ বিভিন্ন সুবিধা। এছাড়া নবজাতকদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।রামেক হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই ইউনিটে নবজাতকদের সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে তাদের আলাদা ইউনিটে চিকিৎসা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি তাদের জন্য হাসপাতালের বেডের সংকটও কিছুটা কমে আসবে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিটটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। এখন এতে ২৭টি সরঞ্জাম বসানোর কাজ শেষ। আর অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ স্থাপন এবং ৯টি শীতাতপ যন্ত্র (এসি) যুক্ত হলেই এই ইউনিটটি চালু করা হবে।সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বেডের সংকট রয়েছে। শিশু বিভাগে তিনটি ইউনিট মিলে বেড সংখ্যা ১২০টি।

কিন্তু এখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি অসুস্থ হয়ে শিশু ভর্তি হয়।ফলে একই বেডে একাধিক শিশু ও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। ফলে একদিকে চিকিৎসক-নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা বলছেন,হাসপাতালে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়জন শিশু মারা যায়। এর মধ্যে নবজাতক শিশুর সংখ্যা বেশি। স্পেশাল কেয়ার ইউনিটটি চালু হলে ওই সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। হাসপাতালে প্রতিদিন নবজাতকদের সংখ্যা থাকে ১০০ জনের মতো। এই অবস্থায় ৪০টি বেডের ব্যবস্থা হলেও এখনো দরকার এমন আরও ৬০টি বেড।রামেক হাসপাতালের শিশু-বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুহার হাজারে ৩৮ জন। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ হলো কম ওজনের জন্ম নেওয়া নবজাতক। এই নবজাতকগুলোর বেশিরভাগেরই সেপ্টিসিমা সংক্রমণ হয়।

এদের যদি আমরা আলাদাভাবে চিকিৎসা দিতে পারি তবে, হাসপাতালে শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাবে।রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, নতুন ওই ইউনিটটি দ্রুতই চালু হবে। সব কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই ইউনিট চালু হলে শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সেবার মান দ্বিগুণ বাড়বে।

কেএ/নতুন কাগজ