• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৩:০৫

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ মাস ধরে কর্মস্থলে নেই চিকিৎসক


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার চরাঞ্চলের নিরীহ মানুষ। এছাড়া এ কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার গত ১৫ মাস ধরে কর্মস্থলে না এসেও সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালে চরআলেকজান্ডার ২০ শয্যার হাসপাতালকে ৩১ শয্যায় উন্নতি করে সরকার। এরপর থেকে শুরু হয় রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। গত ১০ বছরেও গড়ে উঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৪লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষে ৩১ শয্যার হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চিকিৎসক সংকটে ভূগছে। উপকুলীয় এলাকা রামগতি চরাঞ্চল হওয়ায় চিকিৎসকরা এখানে আসতে যেমন রাজি হচ্ছে না, তেমনি কেউ আসলেও নিয়মিত হাসপাতালে থাকছেন না কিংবা এখান থেকে বদলী হয়ে অনত্র চলে যায়। ফলে এ উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে ৮জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলে অনেক দিন ধরে ৮টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৮জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে বর্তমানে ৪জন কর্মরত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পরশু সুজনা বেগম নামে এক মেডিকেল অফিসার হাসপাতাল থেকে অনত্র বদলি হয়ে গেছে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ১৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে ৬জন কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল আবিদা সুলতানা নামে এক মেডিকেল অফিসার এ হাসপাতালে যোগদান করে। এরপর ১৫ মাস পার হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে একাধিকবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার চিটি দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সঠিক সময়ে কর্মস্থলে না এসে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে, কামনা শীষ মজুমদার নামের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ চিকিৎসক প্রায়ই বিভিন্ন ফার্মেসীতে গিয়ে ড্রাগ লাইসন্স দেখার কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি সদ্য বদলীকৃত চিকিৎসক সুজানার সাথেও অসদাচরন করেছেন বলে নাম প্রকাশে হাসপাতালের কর্মরত এক চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এ দিকে সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় মেজবাহ উদ্দিন, জাফর আহম্মদ, কুলছুমা বেগম, আবুল কালাম’সহ বেশ কয়েকজন রোগির সাথে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু নদী ভাঙ্গা রামগতি উপজেলার নিরীহ গরীব মানুষগুলো ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। তাই রামগতি হাসপাতালে ডাক্তারদের শূন্যপদ পুরনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। অপর দিকে চিকিৎসক কামনা শীষ মজুমদার কর্মস্থল

হাসপাতালে ভর্তিকৃত বেশ কয়েকজন রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ যেমন ভালো নয়, তেমনি ডাক্তার কম থাকায় রোগিরা ভালো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। যাদের সামর্থ আছে তারা এ হাসপাতালে আসে না।

এ দিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক কামনা শীষ মজুমদার বলেন, সঠিক সময়ে কর্মস্থলে এসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি। অপরদিকে ডাক্তার আবিদা সুলতানার সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল জানান, চরাঞ্চলের গরীব মানুষ ডাক্তার সংকট থাকার কারণে ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। টাকা পয়সার অভাব থাকায় অনেকে নোয়াখালী কিংবা লক্ষ্মীপুর গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আবদুর রহিম জানান, হাসপাতালে জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার কারণে আবিদা সুলতানাকে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অধিদপ্তরের চিটি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্য চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।