ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

দুপুর ১২:৫২
সারা বাংলা

রাজশাহীর আম বাজারজাত শুরু

জৈষ্ঠ্য মাসকে আম, কাঁঠাল, লিচুর জন্যই মধুমাস বলা হয়ে থাকে। আজ বুধবার (১৫মে) জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম দিন। রাজশাহীর গাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে। প্রশাসনের বেধে দেয়া সময় মতে, আজ থেকে পর্যায়ক্রমে সাত ধাপে বিভিন্ন জাতের আম গাছ থেকে নামানো যাবে।

এদিকে জৈষ্ঠ্যর আগমন মানেই বাজারে রসালো ফল। এসব ফলের মধ্যে লিচু, তরমুজ ও আতা বেশ কিছু দিন আগেই বাজারে এসেছে। এবার জৈষ্ঠ্যের আগেই পরিপক্ব হয়ে গাছ থেকে ঝুড়িতে নামছে রাজশাহীর আম। অবশ্য এগুলো হবে গুটি জাতের আম। উন্নতজাতের গোপালভোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও ক’দিন। গোপালভোগ নামানো শুরু হবে আগামী সোমবার।

দেশবাসীকে বিষমুক্ত আম দিতে গেলো তিন বছর ধরে গাছ থেকে আম ভাঙার জন্য সময় বেঁধে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এবারও সময় বেঁধে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী আজ থেকে শুরু হয়েছে গুটি আম নামানোর কর্মযজ্ঞ। পর্যায়ক্রমে সাত ধাপে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু পরিপক্ব আম গাছ থেকে পাড়া হবে।

উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রাণীপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, গুটি আম প্রতিবছরই একটু আগে পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকে এখন গুটি আম নামাতে শুরু করবেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়ার সময় অনুযায়ী সাত দফায় আম নামাতে পারবেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

প্রথম দিকে গাছে যখন মুকুল আসা শুরু হয় তখন তীব্র শীত ছিল। আবার শেষের দিকে গরমও পড়তে শুরু করেছিল। তাই কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে সবচেয়ে বেশি মুকুল এসেছিল। কিন্তু দফায় দফায় কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টিতে এবার রাজশাহীতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়ে আছেন আম চাষিরা। তবে কৃষিবিভাগ বলছে, গাছে গাছে এখনও প্রচুর আম ঝুলে আছে। এই দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এখন তাপদাহ কাটলেই হয়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তাপদাহ কেটে গেলে আর নতুন কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।