• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৪:১২

ক্যাসিনোগুলোয় অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে


রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোয় অভিযান চলছে। এটাকে এক ধরনের শুদ্ধি অভিযান । এটা অভশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই। গত বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ক্লাব-ক্যাসিনোতে অভিযান চালায়। সেইদিন গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। শুধু তাই নয় ক্লাবটি থেকে দুই নারীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪২ ব্যক্তিকে।

খালেদ ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের সভাপতি। ক্যাসিনোতে মদ ও জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। একই সময়ে মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। এ দুই স্থান থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো-সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

রাজধানীতে ক্যাসিনো কালচার দীর্ঘদিনের। শুধু রেজিস্টার্ড ক্লাব নয়, রাজধানীর প্রায় সবখানে গড়ে উঠেছে অনেক আন-রেজিস্টার্ড ক্লাব বা স্থাপনা, যেখানে  চরে অসামাজিক কাজ।

আমাদের প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিন থেকে ক্যাসিনো কালচার চলে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতদিন পর কেন তৎপর হল? তার প্রধান কারন হলো,  এ কালচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সমাজের প্রভাবশালীদের একটি বড় অংশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও যে বিষয়গুলো জানতো না, তা নয়। ক্যাসিনো থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি বড় অংশ হয়তো প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পকেটেও যেত।

তবে  প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ না করলে হয়তো এ অভিযান পরিচালনা করা হতো না। প্রধানমন্ত্রী শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি সেখানে বলেছিলেন, এক নেতা যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে; আরেকজন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। তিনি এসব বন্ধ করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সেই সভায়।  আমরা দেখলাম,প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষোভ প্রকাশের পরপরই আমরা অভিযান পরিচালনা করা হলো এবং দুই আলোচ্য নেতার একজনকে গ্রেফতার করতে দেখলাম। আমরা একটা বিষয় লক্ষ করে আসছি, প্রধানমন্ত্রী কথা না বলা পর্যন্ত কোনো অপরাধের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা গা করেন না।

হয়তো সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা বলেই এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ছিল। তাহলে কি এটাই ধরে নিতে হবে, এ দেশে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে না, সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কেন?  আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা না থেকে যার যা দায়িত্ব রয়েছে সে ভাবে কাজ করা।