• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:০১

রাইড শেয়ারিং যাত্রী হয়রানি বাড়ছে!


* নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষ
* প্রমোকোডের অফার দিয়ে উল্টো কাজ!
* নারী যাত্রী হয়রানি তো আছেই

জিয়াউর রহমানঃ অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস উবার ও পাঠাওয়ের যাত্রী নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের সার্ভিস নিবন্ধনে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি কতটা যথাযথ, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সেবার মান নিয়ে উবারের ব্যাপারে যাত্রীদের মোটামুটি সন্তোষ থাকলেও দেশি অ্যাপ পাঠাও সম্পর্কে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। আবার বেশিরভাগ মানুষ এখনও ভালোভাবে জানেই না ‘ওভাই’সহ অন্যান্য কয়েকটি দেশি অ্যাপ সম্পর্কে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও গণপরিবহন ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক৷ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এখন গুগল ম্যাপই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার রুট, বাস, ট্রাম বা অন্য সব ধরনের বিকল্প আপনাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানিয়ে দেয়৷ বাংলাদেশে কখন, কোথায়, কোন বাস যায়, তা হয়তো চালকেরাও ঠিকমতো বলতে পারেন না৷
নৈরাজ্য তো আছেই৷ অন্য শহর থেকে ঢাকায় নতুন আসা কারো পক্ষেও গণপরিবহনের রুট, সময়সূচি, ভাড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া অসম্ভব৷

বিকল্প ব্যবস্থায় যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা গাড়ি কিনছেন৷ এমন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছে, যাদের সামর্থ্য না থাকলেও প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে হলেও কিনছেন ব্যক্তিগত গাড়ি৷
দরকারের সময়ে সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি, রিকশা, কোনোকিছুই হাতের নাগালে পাওয়া ঢাকা শহরে সম্ভব না৷ আর বৃষ্টি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সমাবেশ, বা বড় কোনো পরীক্ষা থাকলে ঢাকা শহরের যাত্রীদের অবস্থা হয় পাগলের মতো৷
এই অবস্থায় যাত্রীদের আশীর্ব্বাদ হয়ে আসে উবার৷ এরপরই পাঠাও এবং পরে আরো বেশ কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণপরিবহনের নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে সে জায়গা দখল করে৷ হাতের নাগালে অ্যাপ৷ বাসায় বসে অনুরোধ পাঠালে গাড়ি এসে হাজির হয়৷ কোনো দামদর করতে হয় না৷ নিশ্চিন্তে পৌঁছে যাওয়া যায় গন্তব্যে৷
এদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতাসহ নানা বিষয়ে যাত্রীদেরও রয়েছে অভিযোগ৷
ফেসবুকে বন্ধুদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম রাইড শেয়ারিং নিয়ে তাঁদের মন্তব্য৷ অনেকে খুঁত থাকা সত্ত্বেও এসব সেবাকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ কেউ কেউ তুলে ধরেছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা৷

এক বন্ধু এদের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোটরবাইক চালকেরা নামেমাত্র হেলমেট দেন যাত্রীদের৷
এক নারী বন্ধু প্রশ্ন তুলেছেন চালকের ব্যবহার নিয়ে৷ একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক এক কথায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সবগুলো অবৈধভাবে চলছে৷’ রাস্তায় চালকদের কোনো আইন না মানার বিষয়টিকে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন৷
ভাড়া নির্ধারণে সেবাগুলোর স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কথাও তুলে ধরেছেন এক বন্ধু৷ ‘‘রাইড শেয়ারিং এর কারণে কিছুটা ভোগান্তি মধ্যবিত্তের কমেছে” মানছেন কেউ কেউ৷ কিন্তু পাশাপাশি বলছেন, ‘যেসব কারণে সিএনজিতে চড়া বন্ধ করছিলাম, এখন উবার পাঠাও তা শুরু করছে। ঈদে ভাড়া ৪ গুণ! আবার মোড়ে দাঁড়িয়ে বাইকগুলো চুক্তিতে যেতে চায়!’
কারপুলিং বা রাইড শেয়ারিং-এ কোনোভাবেই একজন চালকের মুনাফা করার কথা না৷ শুধু যাত্রাপথে জ্বালানির খরচের এক অংশ দেয়ার কথা সহযাত্রীর৷ কিন্তু বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং-এর নামে রীতিমতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন চালকেরা৷ শুধু চালক নন, একটা অ্যাপ বানিয়ে আর কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই কামাচ্ছেন নগদ টাকা৷

অল্প দিনেই মানুষের কাছে এ সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপভিত্তিক এ পরিবহন সেবায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, অ্যাপ নির্দেশিত সোজা পথে না গিয়ে বাঁকা পথে গন্তব্যে যাওয়া, যাত্রা শুরুর আগেই রাইড চালু করা, কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতি, একই জায়গায় একেক রকম ভাড়া, প্রমোকোডের নামে কোম্পানির প্রতারণাসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহণকারীরা।
জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে প্রায় এক ডজনেরও বেশি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গড়ে উঠেছে। উবার, পাঠাও, সহজ.কম, চলো, বাহন, গাড়ি ভাড়া, ডাকো, ওভাই, আমার বাইক, শেয়ার মটর সাইকেল, বিডি বাইক ও ইজিয়ার রাজধানীতে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন সেবা চালু করেছে। মোটরসাইকেলে চড়ার সময় যাত্রীদের হেলমেট ব্যবস্থা না করায় দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছেন অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে এ সেবা জনপ্রিয় হলেও হয়রানির ঘটনায় যাত্রীরা বিমুখ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা শহরে চলাচলে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো প্রমোকোডের অফার দিয়ে থাকে। এ অফারে সর্বোর্চ্চ ৭০ ভাগ পর্যন্ত ছাড়ের অফার দেওয়া হয়। চমকপ্রদ এই সুবিধা প্রদানের কোড দিলেও বাস্তব চিত্র তার উল্টো। কোনো রাইডারই সেই প্রমোকোড অনুযায়ী রাইড দিতে চায় না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রাইড সেবা গ্রহণকারীরা।
মোটরসাইকেলে যাতায়াতে কোনো ধরনের ছাড়ে যাত্রী বহন করতে রাইডারদের অনীহা থাকায় যাত্রীরা কোম্পানিগুলোর এ অফারকে প্রতারণা বলছেন অনেকে। এ ছাড়া দুই চাকার এ বাহনে যাতায়াতে ভাড়াও বেশি হওয়ায় যাত্রীরাও অতিষ্ঠ। তারা বলছেন, উবার ও পাঠাওসহ অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যধিক ভাড়া আদায় করছে। এ ভাড়ায় যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে ব্যবহারকারীদের।
উত্তরা যেতে রামপুরা থেকে পাঠাওয়ের রাইডে উঠেন তরিক। তার অভিযোগ, অজুহাত দেখিয়ে চালক তাকে মহাখালী-বনানী হয়ে উত্তরা নিয়ে যায়। ৩০ মিনিটের পথ উনি আমাকে নিয়ে পৌঁছান ৯০ মিনিটে। তাও আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বিপত্তিটা বাধল যখন ভাড়া দিতে গেলাম। অ্যাপসে ভাড়া দেখাল ২৫৪ টাকা, আমি ২৬০ টাকা দিলে তিনি বলেন, ‘ভাই এইটা কী দিলেন। ৩৫০ টাকা দিলেও আমার পোষাবে না। অনেক বাকবিতণ্ডার পর অনেকটা মানসম্মানের ভয়ে বাইকারকে ৩৫০ টাকা দিতে বাধ্য হই। তরিক বলেন, পাঠাওয়ে অভিযোগ করেছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।
হাফিজুর রহমান সফিক নামে পাঠাওয়ের একজন সেবা গ্রহীতার অভিযোগ, রাইডার রাইড শেষে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে বলে, ‘অ্যাপে ভুল রিডিং শো করে, কিন্তু আসলে আমি যেখানে গিয়েছি, সবসময় একই দূরত্ব দেখায় ও একই টাকা দেখায়। সে নামার পর নানা টালবাহানা শুরু করে ও খারাপ ব্যবহার করে। উবারের একজন চালকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন কুদ্দুস নামে একজন। তিনি বলেন, সিএনজি চালকরা যখন অতিরিক্ত ভাড়া নিত, তখন উবার খুব ভালো ছিল। এখন উবার-পাঠাওয়ের ভয়ে সিএনজি চালকরা ভাড়া যখন কমাইলো, এখন উবার অতিরিক্ত ভাড়া নেয়। উবার আমাদের পেয়ে বসেছে। সবসময় অতিরিক্ত সুবিধা খোঁজে। মাসুমা লিজা নামের একজন অভিযোগ করেন, কিছু দিন আগে ধানমন্ডি থেকে উত্তরা এলাকায় যেতে উবারে অনুরোধ পাঠান। কিন্তু চালক আসতে অস্বীকৃতি জানান। চালক দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ তার।
জানা গেছে, শুধুমাত্র ‘পাঠাও’অ্যাপসের ব্যবহারকারীর সংখ্যা লাখেরও বেশি। তবে প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করতে চায় না ‘পাঠাও’।
যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি ভাড়ার কারণে ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি নাখোশ পাঠাও এর উপর। এক রাইড সেবা গ্রহণকারী বলছেন, পাঠাও চালকরা প্রমোকোডের ছাড়ে যেতে চায় না। এছাড়া অ্যাপে অনুরোধ গ্রহণ করেও আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রেখে পরে তা বাতিল করাসহ নানা হয়রানি করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাঠাও এর মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বলেন, প্রমোকোড কোন রাইডার যাত্রী বহন করলে তাকে কোম্পানি থেকে প্রমোকেড এর টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় রাইডাররা নগদ টাকার আশায় প্রমোকোড এর অফার দিয়ে যেতে চায় না। তাহলে কেন এই অফার দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব রাইডাররা যে যাচ্ছে না, তা নয়, কিছু রাইডার হয়ত নগদ টাকা পাওয়ার জন্য প্রমোকোড দিয়ে যাচ্ছেন না। অধিকাংশ রাইড গ্রহণকারীরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
নারী যাত্রীকে হয়রানিঃ
সম্প্রতি এক নারী যাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে পাঠাও’র মোটরসাইকেল চালককে বরখাস্ত করা হয় ।
এ নিয়ে ভুক্তভোগি ওই নারী যাত্রী ফেসবুকে If you’re a girl, DO NOT use Pathao to travel শিরোনামে অভিযোগ বর্ণনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরবর্তীতে এই অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শুরু করলে এক ঘন্টার মধ্যেই পাঠাওয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ ফাহাদের পক্ষ থেকে পাঠাও পেইজ থেকে জানানো হয় অভিযুক্ত চালক মোহাম্মদ আহসানুল ইসলামকে তারা ব্যানড করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত লিখে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এলেনা জানান, আজ (রোববার) ৩টা ১৬র দিকে আমি প্রথমবারের মতো পাঠাও কল করেছিলাম। আমি বন্ধুদের সাথে বসুন্ধরায় ছিলাম। আমার তারাতারি বাসায় ফেরার দরকার ছিল, কারণ আমি অসুস্থ বোধ করছিলাম। আমি প্রথমে উবার ডাকতে গিয়ে দেখি সেখানে খরচ অনেক বেশি, আর সিএনজিতেও আমার কিছু খারাপ অভিজ্ঞতাও আছে, তাই আমি এই ঝুঁকিটি নিয়েই ফেললাম।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে পাঠাও চালক আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং লোকেশন ঠিক করি যেখান থেকে দেখা করব। যখন সে আসে আমাকে কোন হেলমেট নিতে বলেন নি। আমি তাকে ওঠার আগেই বলে নেই যে এটা আমার পাঠাওতে প্রথম রাইড, আর প্রথমবারের মতোই আমি মোটোরসাইকেলে উঠছি।

সৌভাগ্যবশত আমাকে তুলে দিতে আমার বন্ধুরাও এসেছিল এবং তারা আমার ছবি তুলছিল। কিন্তু তখন ওই চালক কড়াকড়িভাবে জানিয়ে দিলো ছবি তোলা নিষেধ। আমি শুধু এইজন্য মেনে নিয়েছিলাম কারণ, আমার বন্ধুদের কাছে শুনেছি পাঠাও নাকি নিরাপদ সার্ভিস। তাই আমিই পাঠাওর বাইকে উঠেছি।

এলেনা হুসাইন জানান, আমি যখন বাইকে উঠি তখন আমার নিরাপত্তার জন্য উনি আমাকে আরও কাছে এসে শক্ত করে ধরতে বলে। কিন্তু আমার কাছে কেন যেন মনে হয়েছে তার অন্যরকম চিন্তা ছিল তাই সে আমাকে বার বার একই কথা বলছিল। যখন আমরা ফ্লাইওভাররে কাছে পৌছালাম তখন সে বলল, আমি ঠিকানা চিনিনা আর ফ্লাইওভারের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পরবর্তীতে সে সঠিক পথে যাওয়া শুরু করে যা আমি শুরু থেকেই নির্দেশনা দিচ্ছিলাম। ফাইনালি যখন আমরা ফ্লাইওভারে উঠলাম তখন দেখলাম ওই চালক তার লুকিং গ্লাসটা আমার চেহারার দিকে তাক করছে এবং হেলমেটের গ্লাসটা খুলে আয়নার ভেতর দিয়ে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

অভিযোগ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে আমি তাকেই কিছুই বলিনি কারণ, আমি জানিনা বাইক চালানোর সময় কি হয়। আর এটাকে স্বাভাবিক ভেবেছি যতক্ষন না তিনি রিজেন্সির কাছাকাছি জায়গায় থামলেন এবং বললেন কয়েকটি সেলফি তুলবেন যা তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে আর পাঠাও’র কাজেও লাগবে। এর আগে আমি দেখেছি অনেকেই চালকের সাথে ছবি তোলে, তাই স্বাভাবিক এভবে আমিও অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তাৎক্ষনকি আমি তাকে মানা করি কারণ সে যখন ছবি তুলছিলো তখন বিশেষভাবে আমাকে তার কাধে হাত রাখার জন্য অনুরোধ করে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখন আমরা উত্তরার কাছাকাছি পৌছে যাই, তখন চালক বাইকটির গতি কমিয়ে আনেন এবং আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, পাঠাওতে এটা তার প্রথম রাইড। তার এক বন্ধুকে নামাতেই তিনি বসুন্ধরায় এসেছিলেন, আর সৌভাগ্যক্রমে আমার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়ে গেল। এরপর সে আমাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল আমি কোথায় পড়াশোনা করি, উত্তরা কোথায় থাকি, আমি সাধারনত কীভাবে কাছকাছি চলাচল করি, কেনো আমার গাড়ি নিতে আসলো না। সে যুক্তরাজ্য থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে বলেও জানাল যদি এটা আমার জানার কোন দরকারই ছিল না। তার এসব প্রশ্নে আমি হাসছিলাম আর মাথা নাড়াচ্ছিলাম, কারণ অল্প সময়ের জন্যে হলেও আমি ভয় পেয়েছিলাম।
এলেনা বলেন, সত্যি বলতে আমি আসলে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, যদি আমি খারাপ ব্যবহার করি, তাহলে যদি সে আমাকে অন্য কোথাও নিয়ে যায় এবং এমন কিছু যার জন্য আমাকে সারাজীবন ভুগতে হবে। পরে তিনি আমাকে বলে, সে প্রায়ই উত্তরা আসতে পারে এবং আমাকে আমার বাসা থেকে নিয়ে ৩০০ ফিটের দিকে ডেট করতে যেতে পারে। আমি কখন ফ্রি থাকি এবং রাতে আমার সাথে ফোনে কথা বলা যাবে কিনা সে তাও জিজ্ঞেস করে। তাতক্ষনিকভাবে আমি আলাপের বিষয়বস্তু থেকে বের হতে চাই, কারণ আমি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইনি। সৌভাগ্যক্রমে আমি তখন আমার গন্তব্যের কাছিকাছি থাকায় আমি তাকে পথ নির্দেশনা দিতে থাকি। আমি তাকে আমার বাসা চেনাতে চাইনি বলে অন্য একটি বাসার সামনে গিয়ে থামি এবং আমি তাকে বলি যে আমি এই বাসাতেই থাকি। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাড়া কত হয়েছে তখন সে ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলে, আমাদের তো প্রায়ই দেখা হবে। কিন্তু আমি তাকে জোর করে ভাড়া দিয়ে চলে আসি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে আমি যখন বাসায় আসি, সাথে সাথে ওই চালকের নাম্বার ব্লক করি এবং পাঠাও অ্যাপসের মাধ্যমে অভিযোগ করি। এরপর আবারও ওই ব্যক্তি অন্য নাম্বার দিয়ে কল দেওয়ার সাহস দেখায়। আর আমি তার গলা শুনে চিনে ফেলি এবং এই নাম্বারটিও ব্লক করি। এখন আমাকে বলুন এই দেশে এমন কোন সেবা কি আছে যা নারীরা তাদের জরূরী সময়ে যাতায়তের কাজে ব্যবহার করতে পারবে?
তবে সেদিন বিষয়টি নিয়ে এলেন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন না বলে জানিয়েছেন ।
এদিকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঠাও থেকে ওই পোষ্টের কমেন্টে বলা হয়, হাই এলেন, আমাদের সেবা নারীদের জন্য সুবিধাজনক ও নিরাপদ করতে আমরা সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতা আসলেই অগ্রহণযোগ্য ব্যবহার। আর তাই এই নির্দিষ্ট চালকের ব্যবহারের জন্য আমরা তাকে বরখাস্ত করেছি (পরবর্তীতে তাকে পাঠাও থেকে নিষিদ্ধ করা হয়)। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই আমরা চেষ্টা করছি পাঠাওকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও নিরাপদ পরিবহন সেবা হিসেবে তৈরি করতে। অন্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে এমন কোন ব্যবহার আমরা সহ্য করব না।
পাঠাওর ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ ফাহাদের পক্ষ থেকে ওই কমেন্টে আরও বলা হয়, আমি জানি এটা আপনার জন্য অবশ্যই খুব ভীতিকর ছিল। আমি দুঃখিত আপনার এই খারাপ অভিজ্ঞতার জন্য। আশা করি আপনি ভালো অনুভব করবেন।
বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি
পাঠাও
২০১৬ সালের শেষে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও৷ পাঠাও জানিয়েছে, এই পর্যন্ত তাদের মোবাইল অ্যাপ প্রায় ৫০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে৷ ৪ কোটির বেশি ট্রিপ দিয়েছেন পাঠাওয়ের চালকরা৷ রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি খাবার ও পার্সেল সার্ভিস রয়েছে পাঠাওয়ের৷ নেপালেও চলছে তাদের কার্যক্রম৷

উবার
বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা হিসেবে উবার যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বরে৷ যদিও ২০১০ সালে প্রথম চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি৷ দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৩তম শহর হিসাবে ঢাকায় উবার সেবা চালু হয়৷

স্যাম
২০১৬ সালের ৭ মে বাংলাদেশের প্রথম অ্যাপভিত্তিক চালু হয়েছিল রাইড শেয়ারিংয়ের সেবা ‘শেয়ার এ মোটর সাইকেল বা স্যাম৷ তবে, সেভাবে জনপ্রিয় হতে পারনি এই কোম্পানিটি৷

বাডি
একাধিক যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম রাইড শেয়ারিং সেবা ‘বাডি’৷ এতে কোম্পানির গাড়িতে একাধিক ব্যক্তি গন্তব্যের পথ ধরতে পারেন৷ ছয় থেকে ১০ জন যাত্রীকে এক গাড়িতে সেবা দিচ্ছে বাডি৷ সেবাটি পাওয়া যায় মোবাইল অ্যাপে৷

নারীদের ওবোন
নারীদের জন্য ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল চালু হয় কেবল নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত ও বোন সেবা৷ শুরুতে ৫০ জন নারী রাইডার দিয়ে কার্যকর চালু হলেও এখন সংখ্যাটা বেড়েছে৷ ও ভাই সলিউশনস লিমিটেড উদ্যোগ নিয়েছে এই প্ল্যাটফর্মের৷

ওভাই
রাইড শেয়ারিংয়ে নানাবিধ নামে সেবা চালু করেছে ‘ও ভাই সলিউশনস লিমিটেড৷ নারীদের ওবোন-এর পাশাপাশি কোম্পানিটির রয়েছে মোটর সাইকেলের ক্ষেত্রে ওভাই মটো, ফোর-হুইলার প্রাইভেট কারের ওভাই গাড়ি, থ্রী হুইলার সিএনজির ওভাই সিএনজি এবং মাইক্রো বাসের না ওভাই মাইক্রো সেবা৷
সহজ
অনলাইনে বাস টিকেট বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে ২০১৪ সালে সহজ ডটকমের যাত্রা শুরু হয়৷ ২০১৮ সালের শুরুতে কোম্পানিটি চালু করে মোটর সাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা৷ এরপর প্রাইভেট কারে রাইড শেয়ারিংয়ের দিকে যায় তারা৷

পিকমি
২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় যাত্রা শুরু করে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি পিকমি৷ মোবাইল অ্যাপে মোটরসাইকেল ও কারের পাশাপাশি স্কুটির রাইড শেয়ারিং সেবাও দেয় তারা৷

মার্কেটে আরো আছে যারা
বাংলাদেশে ২০টির মতো রাইড শেয়ারিং কোম্পানি আছে৷ চলো, মুভ, ঢাকা মোটো, বাহন, আমার বাইক ট্যাক্সিওয়ালা, আমার রাইড, আমার বাইক, ডাকো, গতি ও হ্যালো রাইড প্রভৃতি রয়েছে এর মধ্যে৷

রাইড শেয়ারিং নীতিমালা
অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করে সরকার৷ ২০১৮ সালের ৭ মার্চ থেকে সেটি কার্যকর করা হয়৷