• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:১৬

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন



মো: সাহেদ : মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস।বাংলাদেশের মতো গোটা বিশ্বের মুসলিমরা রোজা রাখা শুরু করেছে। রমজান ঘিরে অন্যরকম প্রস্তুতি থাকে। কারণ এ মাসটি জীবন ধারা বদলে যায়। চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে এক ধরনের শৃঙ্খলা চলে আসে। মানুষের কথাবার্তায়ও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে রমজান মাসে প্রতিটি ইমানদার রোজাদার যেন নির্বিঘ্নে ও অত্যন্ত সহজভাবে রোজার উপকারিতা ভোগ করতে পারে তার জন্য রাষ্ট্র সচেতন হয়। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের সহজলভ্যতার জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যতিক্রম। রমজান আসার আগে থেকে আমাদের দেশের জনগণ এক ধরনের আতঙ্কে থাকেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে। কারণ রমজান এলেই সব ধরনের দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতিমধ্যে মাছ মাংসসহ প্রায় সব জিনিষের দাম বেড়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য চড়া থাকার কারণে অনেক রোজাদারই নির্বিঘ্নে রোজা রাখতে পারেন না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা ভালো থাকে না । অথচ রোজাদারদের কষ্ট দেওয়া অনেক বড় অপরাধ। বিষয়টি বুঝতে হবে। দু:খের বিষয় পবিত্র রমজান মাসে বাণিজ্যের নামে মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় এবং দ্রব্যমূল্যের বাজারে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা তেমনটা নেয়া হয় না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরাই এ ধরনের দুর্নীতির বাজার সৃষ্টিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য দায়ী।
পবিত্র রমজানের শিক্ষা যেখানে দুর্নীতিরোধ ও চরিত্র সংশোধন করা । সেখানে কিছু কিছু মানুষ বেপরোয়া হয়ে দুষ্কৃতি ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটিয়ে নিজেদের ধ্বংস করে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশে । সরকারের উচিত হবে এ সমস্ত অপরাধীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। কেননা জানমালের নিরাপত্তাদান খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা দানসহ সব ধরনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা একটি সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে সরকারের এ দায়িত্ব আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। আমরা মনেকরি সরকার এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।রমজানের মধ্যে যে সব খাদ্যদ্রব্য বেশি প্রয়োজন সেগুলোর মূল্য কমাতে উদ্যোগী হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত মনিটরিং সেল সঠিকভাবে এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে একটি মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সাধারণ জনগণ প্রতিটি রোজা সহজভাবে রাখতে পারবে বলে আমরা মনে করি।