• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১০:৫৭

যে কোনো ভাবে গণপিটুনি দমন করতে হবে


মো: সাহেদ : গুজব রটিয়ে যারা সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।আর যারা সন্দেহবশত নিরীহ মানুষকে মেরে ফেলছে তাদেরকেও রেহাই দেয়া ঠিক হবে না। তবে আশার কথা এ যে, এখন পযন্ত গণপিটুনির ঘটনায় ত্রিশটিরও বেশি মামলা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে। বাড্ডার একটি স্কুলের সামনে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেণুকে হত্যাকারী মূল হোতাসহ ধরা পড়েছে ১৪ জন।

এ অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা ভুমিকা দেশবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে। এ জন্য আমরা পুলিশবাহিনীকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

পদ্মা সেতু হচ্ছে দেশের টাকায়, বিশ্বব্যাংকের অন্যায্য অভিড়েছে, তাদের সক্ষমতা দৃশ্যমান হচ্ছে জনসাধারণের কাছে। বাংলাদেশের উন্নতি যাদের গায়ে জ্বালা ধরে তারাই এ গুজব ছড়াচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে- এমন ভয়ঙ্কর গুজব অনেকে বিশ্বাসও করে। কম্পিউটার-স্মার্ট ফোনের যুগে, চাঁদে মানুষ যাওয়ার অর্ধশতক পূর্তিকালেও বাংলাদেশের বহু মানুষ যে কুসংস্কারের অন্ধকারে রয়েছে- বিষয়টি আমাদের কষ্ট দিলেও এটি বাস্তবতা।

 গণপিটুনি ফৌজদারি অপরাধ। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে পুলিশে দিতে হবে।তা না করে যারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সমাজে ন্যায়বিচার ও সচেতনতা সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই।  আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক তথ্যে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে  সারাদেশে ৩৬ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। গত রোববার পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশজুড়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছেলেধরা গুজবের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে সারাদেশে। সব মিলিয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে, যা দমনে কঠোরতা জরুরী।

 বাংলাদেশ যখন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে অব্যাহত রেখেছে, সেই সময় কুচক্রীমহলের যে কোন ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সম্মিলতিভাবে রুখে দাঁড়াতেই হবে।