• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:১৬

‘যুবরাজ’ দাম ৪০ লাখ টাকা


তরিক শিবলী : বাংলাদেশে মুসলামানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা ১২ জুলাই৷ এই উৎসবে পশু কোরবানি দেয়া হয়৷ বুধবার থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পশুর হাট শুরু হয়েছে৷ তবে আশা, শুক্রবার (৯ জুলাই) থেকে জমজমাট হয়ে উঠবে কোরবানির হাট৷
কোরবানির বাজারে প্রতিবছরই দেখা মেলে বিভিন্ন বাহারি নামের গবাদি পশু। আদর করে মালিকরা বিভিন্ন নাম রাখেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
গাবতলীর হাটে আব্দুল্লাহ অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্ম অনেক বড় গরু নিয়ে এসেছে৷ তাদের ‘যুবরাজ’ নামের গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা । প্রতি বছর বেশ কিছু আকর্ষণ রাখা হয় আব্দুল্লাহ অ্যাগ্রো ডেইরি ফার্মে। ফার্মের মালিকের দাবি, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গরুটির দেখা মিলেছে তার ফার্মে।

রাজধানীতে পশুর হাটের পাশাপাশি জনপ্রিয় হচ্ছে সরাসরি ফার্ম থেকে গরু কেনা। বুধবার ‘বস’ নামের একটি গরুটি বিক্রি করেছে সাদেক অ্যাগ্রো ফার্ম। মূল্য ৩৭ লাখ টাকা!

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এর আগে এতদামে কোরবানির গরু বিক্রি হয়নি। সেক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ডই বটে। অন্তত, এবারের ঈদে ‘বস’ যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রীত গরু তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ইসলাম গার্মেন্টসের মালিক শাকির আহমেদ উচ্চমূল্যে গরুটি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের ভাতিজা।


গাবতলী হাট, খামারের বিদেশি জাতেরও গরু উঠেছে৷ আর সেগুলোর নামও বাহারি ব্ল্যাক ডায়মন্ড, বস, রাজা, বাদশাহ, যুবরাজ৷ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি থেকে অন্যান্য গরুর সাথে বিদেশি জাতের গরু নিয়ে এসেছেন শরিফ হোসেন ঢালি৷ তিনি জানান, তার গরু অ্যামেরিকান ব্রামা জাতের গরু৷ স্থানীয় পশু সম্পদ অফিস থেকে থেকে তিনি বীজ সংগ্রহ করে স্থানীয় জাতের গরুতে প্রয়োগ করেছেন৷ তিনি গরুর দাম চাইছেন ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা৷ ওজন আটশ’ থেকে ১২শ’ কেজি৷
তিনি জানান, ‘‘হাটে আরো বড় গরু এসেছে৷ আরো অনেক গরু আসবে৷ তবে এখন তেমন ক্রেতা নেই৷ আরো দুই-তিন দিন পর হাট জমবে ক্রেতা বাড়বে৷ এখন যারা আসছেন তারা আসলে গরু দেখতে আসছেন৷’’
গাবতলী গরুর হাট, এই হাটে মাত্র একটি গরু নিয়ে রাজবাড়ির পাংশা থেকে এসেছেন ওয়ালী খান৷ তিনি কৃষি কাজ করেন৷ কিন্তু কোরবানির জন্য গরু পোষা তার শখ৷ শুধু শখ নয়, এর মধ্য দিয়ে বছরে একটা বাড়তি আয়ও করেন৷ এবার যে গরুটি নিয়ে এসেছেন তার দাম চাইছেন ১২ লাখ টাকা৷ ওয়ালি খান জানান,চার বছর আগে তিনি এই দেশি জাতের গরুটি কেনেন৷ এরপর কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চার বছর ধরে লালন পালন করে বড় করেছেন৷ তিনি গত বছরও তিনি দুইটি গরু নিয়ে এনেছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এলাকায় এই গরুর দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বলেছে৷ তাই এখানে নিয়ে এসেছি৷ আশা করি ১২ লাখ টাকাই দাম পাবো৷ এর আগেও এলকায় যা বলেছে এখানে তার চেয়ে অইেশ বেশি দাম পেয়েছি৷”
এদিকে , বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানাগেছে কোরানির জন্য মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি৷ ছোট পর ছোট গরুর৷ বড় গরুর চাহিদা কম৷ আর বড় গরুর দামেরও কেনো ঠিক নাই৷ বাংলাদেশ গবাদী পশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান জানান, ‘‘এবার সবগরুই দেশি৷মিয়ানমার এবং ভারত থেকে গরু আমাদানি বন্ধ৷ তারপরও অল্প কিছু গরু চোরাচালানির মাধ্যমে আসছে৷’’ তবে তিনি দাবী করেন, ‘‘এখনো বাজারে ভারতীয় গরু আছে৷ এগুলো আগে আনা হয়েছে৷’’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘পথে এবং বিভিন্ন হাটে এরইমধ্যে ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে৷’’
আর ভাসানটেক গরুর হাটের ইজারাদার আলাউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘‘গরুর হাট শুরু হয়েছে৷ গরুও আসছে৷ তবে বিক্রি শুরু হতে দুই-একদিন সময় লাগবে৷ এবার একটি মাঝারি আকারের গরু এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা দাম পড়বে৷ ছোট গরু ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা৷ হাটের নিরপত্তার জন্য র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷’’
এবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ২১টি স্থানে গরুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিনে ১১টি এবং উত্তরে ১০টি৷ এবার ঈদের দিনসহ মোট ছয় দিন পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ ঈদ ১২ জুলাই সেই হিসেবে আজ ( ৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গরুর হাট শুরু হয়েছে৷ তবে হাট বাস্তবে আরো দু-একদিন আগে থেকেই শুরু হয়৷ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা সব হাটই মনিটর করছি যাতে হাটে কোনো সমস্যা না হয়৷ আর রাস্তার পাশে কোনো অবৈধ বসতে দেয়া হবে না৷
কোরবানির জন্য গাবতরীতে উটও উঠেছে৷ খাসির আমদানিও ভালো৷ এর আগে মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রদিমন্ত্রী আশরাফ আলী খসরু এক কোটি ১৮ লাখ কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মজুদ থাকার কথা জানান৷ ঈদুল আজহায় এক কোটি ১০ লাখ গবাদিপশুর কোরবানি হতে পারে বলে তিনি জানান৷
এবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ২১টি স্থানে গরুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিনে ১১টি এবং উত্তরে ১০টি৷ এবার ঈদের দিনসহ মোট ছয় দিন পশুর হাটের অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ ঈদ ১২ জুলাই সেই হিসেবে ( ৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গরুর হাট শুরু হয়েছে৷ তবে হাট বাস্তবে আরো দু-একদিন আগে থেকেই শুরু হয়৷ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন জানান, ‘‘আমরা সব হাটই মনিটর করছি যাতে হাটে কোনো সমস্যা না হয়৷ আর রাস্তার পাশে কোনো অবৈধ বসতে দেয়া হবে না৷