• ঢাকা
  • শনিবার, ৬ই জুন, ২০২০ ইং | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:২৮

যতদূর দৃষ্টি যায় মন ভরিয়ে দেয় সোনালি রঙের পাকা ধানে


ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: ঝিনাইদহের গ্রামাঞ্চলে যতদূর দৃষ্টি যায় দেখা যায় দিগন্ত জোড়া বোরোর ক্ষেত। মন ভরিয়ে দেয় সোনালি রঙের এসব পাকা ধান। চলতি মৌসুমে কোনো ধরনের কীটপতঙ্গের আক্রমণ ছিল না। তাই মাঠে মাঠ ভরা পাকা ধান ক্ষেতের মৌ মৌ গন্ধ কৃষকদের মনে দিচ্ছে খুশির দোলা।

এদিকে, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার ৬০ হেক্টর। তবে চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫শ ৭০ হেক্টর জমিতে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব মাঠের ধানই লাল হতে শুরু করেছে। তবে আগে রোপণ করা অনেক ক্ষেতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে আকাশে মেঘ জমলেই কৃষকদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার খেদাপড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এ বছর সব জাতের ধানের ফলনই ভালো হয়েছে। তবে গত বছর বোরো সংগ্রহের সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকদের ভরা ক্ষেত নষ্ট হয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। পাকা ধানে ক্ষেত সোনালি রঙ ধারণ করেছে। ধানও হয়েছে ভালো। ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে দায়দেনা শোধ করতে পারব। তবে মাঝে মাঝে আকাশে কালো মেঘ দেখে ি মনে ভীতির সৃষ্টি করছে।

উপজেলার খড়িকাডাঙ্গা গ্রামের বোরো চাষি আয়ূব হোসেন বলেন, এ বছর ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ক্ষেতের ধান দেখে মনে হচ্ছে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারব। আশা করছি, এ সপ্তাহে ধান কাটা শুরু করব। কিন্ত প্রতিদিন বিকেল হলেই আকাশে কালো মেঘ জমছে। এতে নানা শঙ্কায় বুক দুরু দুরু করে।

তিনি জানান, প্রতি বছর মৌসুমে প্রায় একই সঙ্গে ক্ষেতের ধান পাকে। এ সময় ঝড়বৃষ্টির ভয়ে সবাই ক্ষেতের ধান বাড়ি তুলতে মরিয়া থাকেন। ফলে বেশি মজুরি দিতেও তারা কেউ পিছপা হন না। যে কারণে এ সময় কৃষি শ্রমিক পাওয়াটাও কঠিন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আশপাশের জেলা থেকে মৌসুমি কৃষি শ্রমিক আনতে বাধ্য হন।

মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা জেলার চাটমোহর থানার সুমাজবাজার গ্রামে আমার বাড়ি। বোরো ধানের চাষ আমাদের এলাকাতেও আছে। কিন্ত পাকেনি। এখনো ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তাই বাড়তি রোজগারের আশায় এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমার এলাকা থেকে এক সঙ্গে ১৮ জন শ্রমিক এসেছি। প্রতি বিঘা ধান কাটা বাঁধা, বাড়ি আনাসহ ঝাড়ার কাজ করে মোট ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, এ বছর কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই বাড়তি নজর রেখেছেন। সময় মতো পরিমিত সার, পানি সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ ছাড়াও কীটপতঙ্গের হাত থেকে ক্ষেত বাঁচাতে ক্ষেতের মাঝে মাঝে গাছের ডাল পুঁতে দেয়া ও আলোর ফাঁদ তৈরি করে পোকামাকড় নিধনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে উৎসাহিত করেছেন। এ পর্যন্ত কৃষকরা ভালো পরিমাণ ধান ঘরে উঠাতে পেরেছেন, ফলনও খুব ভালো হচ্ছে। মাঠের বাকি ধান কৃষকরা ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে মনে রাখার মত ফলন পাবে।

তিনি আরো বলেন, ব্লাস্ট রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে হাটবাজারে, মাঠে-ঘাটে লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের আগে থেকেই সচেতন করা হয়েছে। যে কারণে এ বছর ক্ষেতে ধান দেখা যাচ্ছে অন্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো। কৃষকেরা যে জমিগুলোর ধান বাড়িতে এনে মাড়াই করেছেন, তাতে সন্তোষজনক ফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে ক্ষেতের ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে লক্ষ্যমাত্রার অধিক উৎপাদনের আশা করাই যায়।