• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৬:৩১

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জোড়াতালি দিয়ে চলছে মৌলভীবাজার জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা। নানান সংকট ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল। অপারেশন বা জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ কে। সেখানে রোগীরা সহায় সম্পদ বিক্রি করে মিটাচ্ছেন ক্লিনিকের খরচ। ছিন্নমূল গরিব ও দুস্থরা উন্নত চিকিৎসার অভাবে পারি জমাচ্ছেন পরপারে।

জানা যায়, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৫২ পদের মধ্যে ১৫ পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। যারা রয়েছেন তারাও হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট প্রাকটিস ও ক্লিনিকে সেবা দিতে ব্যস্ত থাকেন। নানা অজুহাতে রোগীদের ক্লিনিকে ভিড়াতে চেষ্টা করেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। যার ফলে জেলার সবচেয়ে বড় এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চরম ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকরা ওয়ার্ড ভিজিট এবং রাউন্ড ফাঁকি দেন। দুপুর ১টার পর চিকিৎসকের দেখা মেলে না। বিভিন্ন বিভাগে ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে কেউ ছুটিতে আবার কোন বিভাগের পদই শূন্য। অনেক সময় চিকিৎসকদেরকে তাদের কক্ষেই পাওয়া যায় না। এমআরআই, সিটিস্ক্যানের জন্য রোগীদের কমপক্ষে দুই মাস অপেক্ষায় থাকতে হয়। হাসপাতালে নেই প্যাথলজিষ্টও। এই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। এর বাইরে আছে দালালচক্রের দৌরাত্মও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫২টি পদের মধ্যে ১৫টিই শূন্য রয়েছে। ১ জন সহকারি পরিচালক, এ্যানেসথেসিয়া, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওর ৩ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, চক্ষু বিভাগের ১ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, ডেন্টাল বিভাগের ১ সিনিয়র কনসালটেন্ট, প্যাথলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট, সহকারী সার্জন, প্যাথলজিস্ট, ১ জন ইএমওসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। শুধু ৩৭টি পদ পূর্ণ। এছাড়াও নার্সের ১৩০টি পদের মধ্যে ১০৬টি পদ পূর্ণ ও সহকারী নার্সের ৩৪টি পদের মধ্যে ৫টি শূন্য রয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিস্ট হাসাপাতাল হচ্ছে এই জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু গাফিলতি ও পদ শূন্যতার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় অনেকেই জানান, চিকিৎসার জন্য এত দূর থেকে কষ্ট করে বড় হাসপাতালে এসেও ডাক্তার পান না তারা। তাদের প্রশ্ন এই বিড়ম্বনার অবসান হবে কবে?
জনবল সংকট রয়েছে উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথি দত্ত বলেন, যারা ছুটি আছেন তারা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যোগ দেওয়ার কথা। এছাড়া পদ পূরণ করতে নতুন নিয়োগ প্রয়োজন। তিনি আরোও জানান, এই হাসপাতালে আধুনিক মানের শিশু পরিচর্চা কেন্দ্র রয়েছে যা অনেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নেই।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবির বলেন, নতুন নিয়োগ বিসিএসের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে সংকট কেটে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন উিউটি চলাকালীন সময়ে কোন ডাক্তার বাহিরে যাওয়ার কোন নিয়ম নেই। এধরনের অভিযোগ পেলে অবশ্যই গ্রুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। গত বছরের আগস্টে যোগদান করেছি মৌলভীবাজারে, এখন পর্যন্ত তেমন কোন অভিযোগ নেই।