ঢাকা শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:২৯
ফিচার টপসারা বাংলা

মৌলভীবাজারে আগাম বৃষ্টির পরশে চা-গাছে গজিয়েছে নতুন কুঁড়ি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চৈত্র মাসে হঠাৎ করে আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা বাগানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের প্রথম বৃষ্টিতে গজাচ্ছে নতুন পাতা। এ কারণে মৌলভীবাজার জেলার সবকটি চা বাগানে চা পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। নারী চা শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলনের জন্য সকালেই দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলার জন্য চা বাগানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বাগান-সংশ্লিষ্টদের আশা, সামনের দিনগুলো আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল চায়ের চাহিদা এবং দাম সারা দেশে ও বিদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বাগান কর্তৃপক্ষ নতুন বাগান সৃজনের পাশাপাশি কারখানার পরিধিও বৃদ্ধি করেছে।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার গাজীপুর চা বাগানের ম্যানেজার কাজল প্রতিবেদক কে বলেন, এখন সারা দেশে চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। চা চাষের পরিধি বৃদ্ধির জন্য পতিত এলাকায় নতুন চারা গাছ রোপণের কাজ চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই বৃষ্টি বাগানের জন্য অনেক উপকারী, বিশেষ করে ইয়াং টি‘র জন্য।

সূত্রে জানা যায়, গত বছর আবহাওয়াজনিত কারণে সিলেটে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ১০ ভাগ কম হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, গত বুধবার দেখা মেলে চৈত্রে-মেঘে। এবার ভাগ্য প্রসন্ন বলেই মনে করছেন তারা। যার ফলে তারা অনেক বেশি খুশি।

মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শুভ লক্ষণ। মনে করেন চা-বাগান মালিকরা। এই বৃষ্টির পরশে চা-গাছে গজাবে নতুন কুঁড়ি। তবে এই বৃষ্টিতে জনজীবনে কিছুটা ছন্দ পতন হয়েছে কিন্তু চা-উৎপাদন বৃদ্ধিতে বেশ উপকারী’ বলে অভিহিত করেছেন চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা। হঠাৎ বৃষ্টির ফলে কয়েকদিনের মধে কচি কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করবে চা-গাছগুলো। আগে কুঁড়ি ছাড়লে আগে চা পাতা উত্তোলন শুরু হবে।

এ বিষয়ে জেলার শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র অবজারভার মো. হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, বৃষ্টির পরশে চা-গাছ আগে-ভাগে কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করবে। গত কদিন থেকে থেমে থেমে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি চা বাগানের জন্য খুবই উপকারী।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) এর পরিচালক ড. মাঈন উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই বৃষ্টি চায়ের জন্য উপকারী। এর ফলে চা গাছের গ্রোধ বৃদ্ধি পাাবে এবং চা গাছে দ্রুত ফ্লাশ দেখা দেবে। মাঝে মাঝে এমন বৃষ্টি হলে সেচ কম লাগবে এবং চায়ের উত্পাদন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সহজ হবে।