• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:২১

‘মোর আর কত বয়স হইলে মুই ভাতা পাইম, বাহে!’


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ১০৭ বছরের বৃদ্ধ বিপিন চন্দ্র বর্মন আকুতি করে বলেন, মোর (আমার) আর কত বয়স হইলে মুই (আমি) বয়স্ক ভাতা পাইম (পাবো), বাহে!

বিপিন চন্দ্র বর্মন উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের পূর্ব রাবাইতারি বসুনিয়ারছড়া গ্রামের মৃত খোলা রাম চন্দ্র বর্মনের ছেলে। তার ৪ ছেলে ১ মেয়ে। ছেলে-মেয়ে সবার বিয়ে হয়েছে। তিন ছেলের আলাদা সংসার। ছোট ছেলে সনজিৎ চন্দ্র দিনমজুরের কাজ করে কোনও রকমে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। বাকি তিন ছেলেও দিনমজুরের কাজ করে কোনও রকমে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছেন।

বড় তিন ছেলে বৃদ্ধ বাবা-মার তেমন খোঁজ খবর নেন না। কষ্ট করে হলেও ছোট ছেলে সংসারে দু-মুঠো খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করছেন বিপিন চন্দ্র ও তার স্ত্রী ফুলো রানী।

ছোট ছেলে সনজিৎ চন্দ্র বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অতি কষ্টে জীবন-যাপন করছেন। অভাব তার নিত্য সঙ্গী। বৃদ্ধ বিপিন চন্দ্র বর্মনের নিজস্ব কোনও জমিজমা নেই। যেটুকু ছিল তা বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

বর্তমানে শ্বশুরের দেওয়া ১৬ শতক জমিতে ছোট ছোট চালা ঘরে স্ত্রীসহ চার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি একটি মাত্র বয়স্ক ভাতার জন্য এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বয়স্ক ভাতা পাননি।

বিপিন চন্দ্র তার দুঃখ ভরা জীবন কাহিনী বলেন, মোর (আমার) জীবনটা অভিশপ্ত বাঁহে। কিন্তু বয়স ১০৭ হইল তাও মোর কপালে ভাতা জুটলো না।

তিনি সমাজের কাছে প্রশ্ন করে বলেন, মোর আর কত বয়স হইলে মুই বয়স্ক ভাতা পাইম (পাবো) বাহে?
এ ব্যাপারে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু জানান, তিনি কিভাবে বয়স্ক ভাতা থেকে বাদ পড়লেন বুঝলাম না। বিপিন চন্দ্র বর্মন বয়স্ক ভাতার পাওয়ার যোগ্য। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিপিন চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে দ্রুত উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে তার বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।