• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:৪০

মেঘনা ও গোমতী সেতু : স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল আদায়ে প্রচার-প্রচারণা নেই!


কুমিল্লা প্রতিনিধ : যানজট নিরসনের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু প্রচারের অভাবে সফলতার মুখ দেখছে না নতুন প্রকল্পগুলো। মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় বছরখানেক আগে টাচ অ্যান্ড গো পদ্ধতিতে টোল আদায়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করলেও গাড়ির মালিক ও চালকদের মাঝে এখনো তা সাড়া জাগাতে পারেনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত অনেক চালক এই পদ্ধতির কথা এখনো জানেন না।

কয়েকজন চালক বলেন, টাচ অ্যান্ড গো পদ্ধতি চালুর ব্যাপারে এর আগে কখনো শুনিনি। এমনকি এ বিষয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোথাও প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখিনি। এর মাঝে গত ৩০ এপ্রিল যানজট এড়াতে নতুন করে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল আদায়ের লক্ষ্যে সেতু টোল প্লাজায় ‘উইন্ডশিল্ড বেজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা ইটিসি কার্যক্রম চালু করেছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম মেঘনা সেতু টোল প্লাজায় ‘উইন্ডশিল্ড বেইজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা ইটিসি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সচিব বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় একটি করে লেইনে এ পদ্ধতি চালু করা হলো। জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেইন সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ সময় সড়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ইটিসি জনপ্রিয় করতে পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ সবার সহযোগিতাও কামনা করেন। সচিব আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত মেঘনা ও গোমতী সেতু যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। অথচ ইটিসি চালু করার ২০ দিন পর ন্যূনতম কোনো প্রকার সাড়া পড়েনি এই নতুন প্রকল্পটিতেও।

এ বিষয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত গাড়ির মালিক ও চালকেরা বলছেন, যানজট এড়াতে শুধু আগ্রহ ও বিনিয়োগই এ ধরনের উদ্যোগ সফল করার জন্য যথেষ্ট নয়, যারা টোল দেবেন তাদেরও এ পদ্ধতিটি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে হবে। টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে এর সুফল তুলে ধরতে হবে। চালকদের মাঝে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এই নতুন প্রকল্পটির বিষয়ে ধারণা দিতে পারলেই এর সুফল পাওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে সরকার। জনগণের রাজস্ব এই ব্যয়ের প্রধান উৎস। বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতু থেকে আদায়কৃত টোল রাজস্ব আয়ের একটি বড় খাত। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায় পদ্ধতিতে নিয়মিত যানজটের বিড়ম্বনা বেড়ে যাওয়ায় আরো সহজ ও গতিশীল টোল আদায় পদ্ধতির পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তথ্য মতে, দেশের সবেচেয়ে ব্যস্ততম ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল ‘টাচ অ্যান্ড গো’ পদ্ধতিতে টোল আদায় শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এই পদ্ধতিতে স্মার্টকার্ডে প্রিপেইড সিস্টেমে টাকা পরিশোধ করে চালকরা স্বল্পতম সময়ে টোলপ্লাজা অতিক্রম করলে যানজট অনেকটা কমে আসতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে টোল আদায়ে আরো কার্যকরভাবে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি মেঘনা ও গোমতী সেতুতে ‘উইন্ডশিল্ড বেইজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা ইটিসি কার্যক্রম চালু করেছে। এ পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম সময়ে টোলপ্লাজার বিড়ম্বনা পার হতে পারবে; পাশাপাশি টোল আদায়ে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সহজ হতে পারে।

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় এক প্রকার নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। মালিক-চালকদের যথেচ্ছাচার, সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তায় অব্যবস্থাপনা, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে জনদুর্ভোগ চরমে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩২ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এহেন বাস্তবতায় টোল আদায়ে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের সুযোগে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে টোলপ্লাজায় অতিরিক্ত টোল আদায় এবং গাড়িচালকদের হেনন্তা হওয়ার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। তাই টোল আদায় কার্যক্রমের আধুনিকায়নে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায়ের জন্য চালু হয়েছে রিয়েল টাইম ওয়েব বেজড মনিটরিং সিস্টেম। এ পদ্ধতিতে মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টোল আদায়ের ‘উইন্ডশিল্ড বেইজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা ইটিসি সবচেয়ে যুগোপযোগী হিসেবে অভিহিত করেছেন মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এ পদ্ধতি অনুসরণ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি গাড়ির টোল সংগ্রহ করা যায়। আমাদের দেশে বড় সেতুগুলোর টোলপ্লাজার যানজট এড়াতে পদ্ধতিটি কার্যকর হবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, মেঘনা ও গোমতী সেতুর ঢাকা ও চট্টগ্রাম প্রান্তে অবস্থিত টোলপ্লাজায় টোল আদায় করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন ও পুরাতন সেতু মিলিয়ে মেঘনা ও গোমতী সেতু হবে ছয় লেনের। বর্তমানে টোল গেটগুলোর অদক্ষ ব্যবস্থার কারণে তীব্র যানজট হচ্ছে। আর এই অদক্ষ ব্যবস্থা দূর করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ পদ্ধতি চালু করার ফলে এই মহাসড়কে নিয়মিত চলাচল করা গাড়িগুলোকে একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস সংগ্রহ করতে হবে। এসব ডিভাইস আবার যেকোনো একটি ব্যাংক হিসাবের সঙ্গেও সংযুক্ত থাকবে। ফলে গাড়ি যখন টোলপ্লাজা অতিক্রম করবে তখন টোলপ্লাজায় স্থাপন করা ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় হবে। এ পদ্ধতিতে গাড়িগুলোকে টোলপ্লাজায় থামতে হবে না। যেসব গাড়ি এ পদ্ধতিতে আসতে ডিভাইস সংগ্রহ করবে সেগুলোর জন্য বিশেষ সেবা চালু রয়েছে। রয়েছে বিশেষ লেন।

ইটিসি পদ্ধতিতে গাড়ির সামনের আয়নার উপরিভাগে সংযুক্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি ট্যাগের সাথে টোল গেটের এন্টেনার সঙ্কেতের মাধ্যমে টোল আদায় হবে। যানবাহন টোলপ্লাজা পার হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল কাটা হবে ব্যাংক হিসাব থেকে। টোল আদায়ের পরপরই খুদে বার্তার মাধ্যমে গ্রাহককে জানিয়ে দেয়া হবে টোল আদায় এবং ব্যাংক হিসাব থেকে কর্তনের সর্বশেষ তথ্য। এ প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময়ের প্রয়োজন হবে।

ইটিসি সেবা গ্রহণের জন্য যানবাহনকে এর আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ কাজে প্রাথমিক পর্যায়ে সহযোগিতা দিচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লি.।