• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৯:২৭

মিলানে বিজয় দিবস পালিত


তুহিন মাহামুদ, ইতালি থেকে : ইতালির মিলান শহরে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলানে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে প্রতিবছরের মত এবারও বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে।

৪৯ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাসভরে অংশ নেন মিলানে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা,সামাজিক, রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক ব্যবসায়িক,সাংবাদিক,আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দসহ সকল শ্রেণী পেশার বাংলাদেশী নাগরিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব দীপংকর তালুকদার।

দিবসের শুরুতে কনসাল জেনারেল ও কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্হ হতে পাঠের মাধ্যমে দিবসের দ্বিতীয় ভাগের অনুষ্ঠান শুরু হয়।প্রথমে প্রধান অতিথি এবং কনসাল জেনারেলসহ কর্মকর্তাগণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।অতঃপর লোম্বারদিয়া আ’লীগের,মিলান বাঙলা প্রেস ক্লাব সহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সকল আত্মোৎত্যাগকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন দেশে অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এ দিবস উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী সমূহ পড়ে শোনানো হয়।

প্রধান অতিথি মিলানে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরমোহাম্মদকে কন্স্যুলেট জেনারেল এর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচছা জ্ঞাপন করেন।প্রবাসী বাংলাদেশীগণ তাঁদের বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


তাঁরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।এ সময় বক্তব্য রাখেন লোম্বারদিয়া আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মান্নান মালিকা,সাধারণ সম্পাদক নাজমুল কবির জামান,আকরাম হোসেন,দেলোয়ার হোসেন মোল্লা,আবু আলম, মোহাম্মদ হানিফ শিপন,খান রহমান জামিল আহমেদ,তুহিন মাহামুদ,আরফান শিকদার,মামুন হাওলাদার, সরোয়ার হোসেন,আব্দুল বাসিত দোলই, রাহুল সহ প্রমূখ।

অতঃপর ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ইতালি থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
ব্যক্তি পর্যায় ৪জন এবং সাংগঠনিক পর্যায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়।প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশের ধারা তুলে ধরেন।তিনি যে সব ব্যক্তি বা রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যূদয় ও স্থায়ীত্বের ব্যপারে সন্দিহান ছিলেন তারাই আজকে এ দেশের ব্যাপক উন্নয়নের স্বীকৃতি দিয়ে চলেছেন।অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিনত হবে।তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সূচিত সকল উন্নয়ন কর্মসূচীকে সবাইকে এগিয়ে নিতে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
সভাপতির ভাষণে কনসাল জেনারেল জনাব ইকবাল আহমেদ বলেন,বাংলাদেশ যত অল্প সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এত অল্প সময়ে স্বাধীনতা অর্জনের অভিজ্ঞতা কোন দেশের নেই।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল এ পাকিস্তানি বাহিনী প্রায় ৯৩০০০০ সৈন্য নিয়ে যে আত্মসমর্পণ করে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বৃহত্তম আত্মসমর্পণের ঘটনা।বর্তমান বাংলাদেশের বৈদেশিক রির্জাভ বাংলাদেশের চারগুণ। উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কিছু কিছু সূচকে বাংলাদেশ ভারতের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে

তিনি সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল উন্নয়ন প্রয়াসে সবাইকে সম্পৃক্ত থাকার আহবান জানান।
মিলানে বসবাসরত সঙ্গীত শিল্পী সুচীত্রা রোজারিও ও মনিরুল আলমের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আপ্যায়নের মধ্যেদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। সকলের সম্মিলিত অংশ গ্রহন ও প্রাণোচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানটি ব্যঙময় হয়ে ওঠে।