• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৬:৩৩

মাগুরার উন্নয়নে সাইফুজ্জামান শিখর এমপির বিকল্প


অধ্যক্ষ সুমনা ইয়াসমিন : অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি। মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার বাবা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে মাগুরা-২ এর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বোন কামরুল লায়লা জলি জাতীয় সংসদের সাবেক সাংসদ।

শিখরের বাবা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে ছাত্রাবস্থাতেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬২’র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৫ সালে তিনি মাগুরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সোহরাব হোসেন ও সৈয়দ আতর আলীকে সাথে নিয়ে মাগুরায় পাকিস্তানি বাহিনী ও দোসরদের আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মাগুরায় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭২ সালে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি মাগুরা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর, ১৯৮৬ সালে তিনি তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের মাগুরা-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

পিতা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামানের মতো অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি তার মেধা, মনন, কর্মপ্রয়াস, শ্রম ও অধ্যবশায়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়েছেন পরিশীলিতভাবে। শৃঙ্খলিত জীবন নয়, মুক্ত জীবন জাপনেই তার আরাধনা। আবার একাকী মুক্ত জীবন নয়, সম্মিলিত মুক্তির চেতনা ও দর্শন তার মাঝে সদা জাগ্রত যেন অতন্ত্র প্রহরী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আদর্শ ও দেশাত্ববোধ অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপিকে অনুপ্রাণিত করে। যার কারণে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির একজন অনুরাগী হিসেবে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন নিবীড়ভাবে।
মাগুরার রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপির বিকল্প তিনি নিজেই। তিনি শুধু মাগুরার নয়, তিনি সারা দেশে জনপ্রিয় নেতা। তার সঠিক নেতৃত্ব,পরিচিতি, সুখ্যাতি সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। তার জনপ্রিয়তা দেশব্যাপী। তারুণ্য নির্ভর রাজনীতিক অন্যতম পথিকৃৎ অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি সদা হাস্যজ্জল ও মিষ্টি ভাষী। তার মতো একজন ব্যক্তি হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ব করা যায়।

তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। একাধারে তিনি একজন আইনজীবী, রাজনীতিক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। এমনি একজন স্বনামখ্যাত মানুষ। অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি সদা কর্মচঞ্চল, মানবদরদি ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন যদি কেউ এমন কোনো আদর্শবান রাজনীতিবিদ কিংবা সমাজসেবীর নাম বলতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে তার নাম বলতে হবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাহায্যের হাত বাড়ানো এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে একজন উঁচুমাপের সমাজসেবক হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। অসম্ভব মেধা, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ও সময়োপযোগী কর্মোদ্যগের মাধ্যমে বহু আগেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

ব্যক্তি জীবনে তিনি যেমন বিলাসবিমূখ সাদামাটা, তেমনি কর্মী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সর্ব মহলে প্রশংসিত। দশ বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধ সকলের প্রিয় মানুষ অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপির মাগুরা-১ আসনের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত সব প্রান্তেই তার সরব বিচরণ রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে এখানো তিনি সমান জনপ্রিয়, এখানো পাড়া-মহল্লা বা যেকেনো স্থানে দাঁড়ালে তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের জন্য শত মানুষের ভিড় জমে।
একজন আদর্শ সমাজ সেবকের নাম অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপি। মানুষের জন্য যার মন কাদে সারাক্ষণ। পারিবারিক ভাবেই সমাজ সেবার মহান ব্রত যার রক্তে মিশে আছে। যিনি শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। মাগুরা-১ এলাকার আপামর জনসাধারনের ভাল-মন্দের ভাবনাগুলো তিনি নিজের কাধে তুলে নিয়েছেন আপন মহিমায়। স্বভাব সুলভ ভাবেই সমাজ সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন অবিরতভাবে। সমাজের সকল পেশার মানুষের কথা তিনি মনযোগ সহকারে শোনেন এবং সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এমপির অভাবনীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড, সাধারন মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মহানুভবতা দেখে আমাদের মুগ্ধ করেছে।

লেখক: অধ্যক্ষ সুমনা ইয়াসমিন , উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ ও সভাপতি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর।