• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৩:২২

ভোলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার কিশোরীকে ধর্ষণ


দুলারহাট প্রতিনিধি

জেলার চরফ্যাসনে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশী এক কিশোরী (১৫) একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

জানা যায়, চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন আবুবকরপুর ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফারুকের ছেলে ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রাসেল (২৫) একই ওয়ার্ডের এক কিশোরীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষন করে। ধর্ষিতার পরিবার আবুবকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বিচারের দাবি করলেও কোনো বিচার পায়নি তারা। এমনকি প্রভাবশালীদের ভয়ে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেনি ধর্ষিতার পরিবার।

কিশোরীর অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, রাসেল স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে একপর্যায়ে কিশোরী প্রেমের ফাঁদে ফেলতে বাধ্য করে। অবশেষে তাদের দু’জনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীকালে রাসেল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করে আসছে। এমনকি কিছুদিন আগেও কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা নিয়ে যায়, সেখানে বিয়ে না করে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ দিন যাবত শারীরিক মেলামেশা করে রাসেল।

কিশোরী তাকে বারবার বিয়ের কথা বললেও রাসেল তাকে বিয়ে না করেই লঞ্চ যোগে পূনরায় কিশোরীকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।কিশোরীর মা ও বড় বোন জানান, গত ২ এপ্রিল বুধবার রাতে রাসেল আমাদের বাড়ীর দিকে খারাপ উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটকানো চেষ্টা করে, কিন্তু সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন এ বিষয়টি আমাদের কাছে এবং গ্রামে জনসম্মুখে প্রকাশ পায়, আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষক রাসেল ও তার পরিবার আমাদের কে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে যাতে আমরা এ ব্যাপারে কোথাও কোনো অভিযোগ না করি। এদিকে ধর্ষক রাসেল ও তার পরিবার ক্ষমতা এবং টাকার প্রভাব খাটিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে বলে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপ কালে জানা যায়।

আরো জানা যায়, তাদের খুঁটির জোরে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতারা পুলিশ প্রশাসনের মামলা করতে না দিয়ে উল্টো নিজেরাই বিভিন্ন উপায়ে কিশোরীর পরিবারের সাথে সমঝোতা করার চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে আবুবকরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ জমাদারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমি এ বিষয়টি কিছুই জানিনা। জানলে আপনারা গিয়ে খোঁজ নেন।

দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।