• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৩৮

ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদে বিমানের কোটি টাকার টেন্ডার


নিজস্ব প্রতিবেদক : ভুয়া শব্দটি যেনো পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ বিমানের। একের পর এক দুর্নীতি, অসাধু, চক্র ও বিমান কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ উদাসীনতার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। নতুন করে আরো একটি থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো ।
অস্তিত্বহীন হসপিটালের ভূয়া অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে সফট টাচ নেটওর্য়াক নামক একটি প্রতিষ্ঠান।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসেস (বিএফসিসি) থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
জানা যায়,বিমানের একটি উচ্চপর্যায়ের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং ভূয়া অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের খাদ্য সামগ্রী সাপ্লাইয়ের কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেয় সফট টাচ নেটওর্য়াক নামক প্রতিষ্ঠানটি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বিমানের কর্মকর্তা বলেন, বিমান যেমন আকাশে উড়ে টাকাও তেমন আকাশে উড়ে, এখানে সবই সম্ভব ।

ই-টেন্ডার ফরম পূরনের সময় সফট টাচ নেটওয়ার্ক এর মালিক মোঃ মশিউর রহমান সাওন টেন্ডারের সর্ত ভঙ্গ করে ভুয়া অভিজ্ঞার সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে অসদ উপায় অবলম্বন করেন। অতীত অভিজ্ঞার সনদ হিসাবে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় অবস্থিত তফুরা খাতুন মেমোরিয়াল মেডিকেল হসপিটাল এর রুগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ফলমূল সরবরাহ করেছেন বলে প্রত্যায়ন পত্র জমা দেন।
সরেজমিনে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় তফুরা খাতুন মেমোরিয়াল মেডিকেল হসপিটাল নামে কোন হাসপাতাল নেই।
লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল মালিক সমিতির সেক্রেটারী মোঃ কাউছার বলেন, লক্ষ্মীপুরে তফুরা খাতুন মেমোরিযাল হাসপাতাল নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এধরনের কোন হাসপাতাল এখন পর্যন্ত আমাদের চোখের সামনে পড়ে নাই। তবুও আমরা খোজ খবর নিয়ে দেখবো। যদি কেউ এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ভাংগিয়ে প্রতারনার চেষ্টা করে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্ক্হা গ্রহণ করবো।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানা যায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় একটি সরকারী ও সাতটি বেসরকারী হাসপাতাল রয়েছে। সেই গুলো হলো রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল, জনতা মা ও শিশু হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, মডেল হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ বায়োপ্যাথ হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, উপশম হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, আল-হেলাল হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, নিউ লাইফ হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ ও আধুনিক হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ। অথচ অস্তিত্বহীন একটি হাসপাতালের প্যাড বানিয়ে নিজের মত করে অভিজ্ঞতার সদন লিখে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বরাবর অন-লাইনে জমা দেন সফট টাচ নেটওর্য়াকের মালিক দূর্নীতি বাজ ও প্রতারক মশিউর রহমান। অস্তিত্বহীন হাসপাতালের প্যাডে যে মোবাইল নাম্বরটি দেওয়া হয়েছে সেটি ঢাকার তেজগাঁও এলাকার তেজতুরি বাজারের একজন ফল বিক্রেতা ব্যবহার করেন। পরিচালক হিসাবে যে ডাক্তারের নাম উল্লেখ করেছেন সেই নামে বিএমডিসিতে কোন সদন নেই বলে তথ্য পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলার সিভিল সার্জেন ডাক্তার নিজাম উদ্দিন প্রতিবেদক কে জানান তফুরা খাতুন মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামে রামগঞ্জ থানায় কোন হাসপাতাল নেই। কিছু দূর্নীতিবাজ লোক ভুয়া অস্তিত্বহীন হাসপাতালের অভিজ্ঞতার সনদ বানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাছিল করেন এই সব প্রতারকদের কে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত। লক্ষ্মীপুর জেলা হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউছার হোসেন বলেন তফুরা খাতুন মেমোরিয়াল মেডিকেল হসপিটাল নামে কোন হাসপাতালের নাম শুনিনি, এই নামে রামগঞ্জ থানায় কোন হাসপাতাল নেই। জনমনে প্রশ্ন ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করলেও কিভাবে বিএফসিসি কর্তৃপক্ষের চোখ ফাখি দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার হাতিয়ে নিলেন সফট টাচ নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠানটি।

অনুসন্ধানে জানা যায় সফট টাচ নেটওয়ার্কের মালিক মোঃ মশিউর রহমান এর পিতাও বিএফসিসির ঠিকাদার ছিল। সেই সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুয়া কাগজ পত্র তৈরীর অপরাধে তার প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য গোষনা করেন বিমান কতৃপক্ষ। পিতার যোগ্য উত্তরাধিকারী বাপের সেখানো পথে হাসছেন।
ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ইতিমধ্যে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসের কোটি টাকার টেন্ডার হাতিয়ে নিয়েছেন। একটি টেন্ডারের পক্রিয়া চলমান রয়েছে। সফট টাচ নেটওয়ার্কের জমা দেওয়া ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে বিএফসিসি কতৃপক্ষের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলে আসা করেন অনেকে।

বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে জানান, কোন প্রতিষ্টান প্রতারণামূলক কাজ করে থাকলে আমরা তা যথাযত ব্যবস্থা নিব ।

বিষয়টি নিয়ে বিএফসিসির সহকরী ম্যানেজার ষ্টোর শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান কোন প্রতিষ্ঠান যদি ভুয়া কাগজপত্র মাধ্যমে টেন্ডার পায় পরবর্তীতে কাগজপত্র ভুয়া প্রমানিত হলে টেন্ডার বাতিল সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিমান ফ্লাইট সার্ভিস এর জেনারেল ম্যানেজার বুশরাকে কল দিলে রিসিভ করেন নাই।