• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৮:০৮

ভারতের নির্বাচন, বলিউডের কে জিতছে আর হারছে


তিনশোরও বেশি আসনে এগিয়ে এনডিএ। আজ সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকল বিজেপি। এ নিয়ে গেরুয়া শিবিরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। শিবিরের প্রার্থী ‘বলিউডের ড্রিম গার্ল ’হেমা মালিনী মথুরা লোকসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছেন।

গতবার জয়ন্ত চৌধরীকে হারিয়ে এই কেন্দ্রের সাংসদ হয়েছিলেন। হেমা মালিনী ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটে জিতে ছিলেন। ২০০৪ সালে হেমা বিজেপিতে যোগ দেন। এবার হেমা মালিনীর ভাগ্য অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুটা এগিয়ে আছেন। আরএলডির (রাষ্ট্রীয় লোকদল) প্রার্থী নরেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে হেমার জোর লড়াই চলছে।

বলিউডের নায়ক ধর্মেন্দ্রর ছেলে সানি দেওল এবার বিজেপির হয়ে নির্বাচন লড়ছেন পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর আসন থেকে। তিনিও জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। সানির নির্বাচনী প্রচারে বাবা ধর্মেন্দ্র ও ভাই ববিকে দেখা গেছে। ধর্মেন্দ্র ছেলের হয়ে অনেক সমাবেশ ছাড়াও প্রচুর সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

ছেলের প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিলেন ধর্মেন্দ্র। মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সানির পাশে ববিকে দেখা গেছে। পাঞ্জাবের এ আসনে সানির সঙ্গে লড়াই হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান ও ওখানকার বর্তমান সাংসদ সুনীল জাখড়ের।

বলিউড অভিনেত্রী ঊর্মিলা মাতন্ডকর রাজনীতির আঙিনায় পা রাখামাত্রই বিতর্ক তাঁকে ঘিরে আছে। উত্তর মুম্বাই আসন থেকে কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন লড়ছেন এই বলিউড অভিনেত্রী। তাঁর বিপক্ষে আছেন বিজেপির বর্তমান সাংসদ গোপাল শেট্টি। সকাল থেকে তিনি এগিয়ে থাকলেও ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছেন এ অভিনেতী।

বিজেপি ছেড়ে সদ্য কংগ্রেসে এসেছেন বলিউডের দাপুটে অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি বিহারের পাটনা সাহিব থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। বিজেপির রবিশংকর প্রসাদের সঙ্গে শত্রুঘ্নের তীব্র লড়াই হবে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনেকটাই এগিয়ে আছেন।

বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সুনীল দত্তের কন্যা প্রিয়া দত্ত কংগ্রেসের সাবেক সাংসদ। গত লোকসভা নির্বাচনে প্রিয়া বিজেপির পুনম মহাজনের কাছে পরাজিত হন। এবার তিনি নির্বাচন লড়বেন না বলে মনোস্থির করেছিলেন। তবে রাহুল গান্ধীর অনুরোধে প্রিয়া এই কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছেন। আবার কড়া চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রিয়ার। সর্বশেষ খবরে এবারও তিনি হারতে চলছেন।

উত্তর প্রদেশের ফতেপুর সিক্রি আসন থেকে কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন লড়ছেন বলিউড তারকা রাজ বাব্বর। এই বলিউড অভিনেতার মোকাবিলা হচ্ছে বিজেপির রাজকুমার চাহরের। ২০০৯ সালে রাজ বাব্বর এ আসন থেকে খুব কম ভোটে হেরেছিলেন। বুথ–ফেরতে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে বিজেপির জয় হবে। আর আজ ভোটের সর্বশেষ ফলের খবরে রাজ বাব্বার আবারও হারতে চলছেন বলা যায়।

ভোজপুরি তথা বলিউড অভিনেতা মনোজ তিওয়ারি ২০০৯ সালে সমাজবাদী পার্টির হয়ে নির্বাচন লড়েছিলেন। পরে ২০১৪ সালে তিনি বিজিপির প্রার্থী হয়েছিলেন। দিল্লির উত্তর-পূর্ব কেন্দ্র থেকে মনোজ আপ পার্টির প্রার্থী আনন্দ কুমারকে বিপুল ভোটে হারিয়েছিলেন। এবারও মনোজ এগিয়ে আছেন। তার জয়টা নিশ্চিন্তই বলা যায়।

প্রায় তিন দশক ধরে বিহারের গোরখপুরের ওপর বিজেপির আধিপত্য চলে আসছে। উপনির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রবীণ নিষাদ এ আসন বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেন। এবার এ আসনে বিজেপি ভোজপুরি তথা বলিউড অভিনেতা রবি কিষণকে প্রার্থী করেছে। আর রবির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন সপার রামভুয়াল নিষাদ। এ আসনে জোরদার লড়াই হবে। তবে অধিকাংশ বুথ–ফেরত বলছে, রবির জয়ের সম্ভাবনা বেশি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রবি এগিয়ে আছে।

বলিউডের নামজাদা অভিনেত্রী জয়াপ্রদা দ্বিতীয়বার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চলেছেন। এবার তিনি উত্তর প্রদেশের রামপুর কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে নির্বাচন লড়ছেন। এ কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন সপা এবং মহাজোটের হেভিওয়েট প্রার্থী আজম খান। তিনি হেরে যাবেন বলেই সকলের মত। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফল তাই বলছে।

শত্রুঘ্ন সিনহার স্ত্রী তথা বলিউড অভিনেত্রী পুনম সিনহা এবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। সমাজবাদী পার্টি লক্ষ্ণৌ থেকে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সবচেয়ে মজাদার ব্যাপার, পুনম সিনহার নির্বাচনী প্রচারে স্বামী শত্রুঘ্ন এবং কন্যা সোনাক্ষী শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। পুনম হারতে চলছে সেটা অনেকটাই নিশ্চিত।

পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় একসময়ে কংগ্রেসের দুর্গ ছিল। টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পবন কুমার বানসাল জিতে এসেছেন। তবে গত নির্বাচনে বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী তথা অনুপম খেরের স্ত্রী কিরণ খের এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে জয়ী হন। তিনি কংগ্রেসের পবন কুমারকে ৭০ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। আবার তাঁরা মুখোমুখি।

বুথ-ফেরত জরিপ অনুযায়ী, এবার কিরণ অনেক বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হবেন। এবারও যে তিনি জয় পেতে যাচ্ছেন সেটা সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে বোঝা যাচ্ছে।