• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ গ্রামে সংঘর্ষ


নতুন কাগজ ডেস্ক: জলমহালের মালিকানা নিয়ে ক্রমশ অশান্ত হয়ে পড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুল্লা-হাজীপুরসহ অন্তত পাঁচটি গ্রাম। বিলে বাঁধ নির্মাণ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে দু’দিনে কয়েক দফা সংঘর্ষে কামালপুর গ্রামের অন্তত ৩০টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। উত্তেজনা প্রশমন ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় ঘটনাস্থলে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
বুল্লা গ্রামের “বড়উঠান সমবায় সমিতির” নামে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলীবিল জলমহালের ইজারা পায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ন দাস। কিন্তু বৃহৎ আকারের জলমহালের সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় পাশের গ্রাম হাজিপুর, আতরাপাড়া, পাইকপাড়া গ্রামের লোকজন বিলের একাংশ নিজেদের দাবি করে বিলে মাছ ধরার জন্যে বাঁধ নির্মাণ করে। এতে বুল্লা গ্রামের ইজারাদাররা বাধা দেয়। কিন্তু বাধা না মানায় ইজারাদারদের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজীপুর,আতরাপাড়া ও পাইকপাড়া গ্রামের লোকজনকে ধাওয়া করে। এরপর গত দু’দিন ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একজন বলেন, এরা সন্ত্রাসী, কিছু অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের গ্রামে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিছে।
বিবাদমান বুল্লা এবং হাজীপুর গ্রামের পক্ষ না নেয়ায় দুই গ্রামের মধ্যবর্তী কামালপুর গ্রামের ৩০টি বসদঘর পুড়িয়ে দেয় সংঘর্ষকারীরা। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা সর্বস্ব হারিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
কামালপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, জোরপূর্বক ভাবে বাড়িতে এসে, বাড়ি ভাঙচুর করছে। এবং যাওয়ার সময় বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহের নিগার বলেন, ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে রিপোর্ট নেয়ার জন্য ওখানে আমি মানুষ পাঠিয়েছি। ওনারা এসে আমাদের রিপোর্ট দেয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আমরা সেই ব্যবস্থা নিবো।
বিজয়নগর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ওই এলাকায় আমাদের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ সীমানা নির্ধারণ করে যেনো ইজারা দেয়া হয়। সেই বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো।
প্রায় ২৫ একর জলমহালের মালিকানা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় প্রায় ১৩শ’ জন মানুষকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে।

নতুন কাগজ/আরকে