ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

রাত ৪:৪২
সম্পাদকের কলামসম্পাদকের কলাম টপ

ব্যাংক নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরী

মো: সাহেদ: সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা  দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বোনাস বন্ধ করে দেয়া হবে। ব্যাংকের টাকা বিদেশে পাচারকারীদের দমন করা হবে । ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, ব্যাংকে ‘সেবা কেন্দ্র’ স্থাপন এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাস করা হবে। যদিও  এ ধরনের নির্দেশ ও সতর্কবার্তা আগেও দেয়া হয়েছিল। কি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম দূর হয়নি।

তাই আমরা মনে করি, অর্থমন্ত্রীর উল্লিখিত নির্দেশ ও সতর্কবার্তা যেন আগের মতো কথার কথা না হয়। মানুষ বাস্তবায়ন চায়।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লোকসানের অন্যতম কারণ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বস্তুত অসৎ ব্যাংকারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্রই ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে।  এ ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে না হওয়াটা একট বড় কারন। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু রাজনৈতিক কারণে  নিয়োগ দেয়া বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে।

পাচারের সঠিক কারন চিহ্নিত করে তা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া গেলে রোধ হতে পারে অর্থ পাচার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তৎপর হতে হবে।  ব্যাংকিং খাতে জাল-জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর হতে হবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা রোধ করতে হলে এ খাতে সংস্কারের বিকল্প নেই।