• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৫:১৭

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার কোটি টাকা


বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৬০২৮.৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে, বিশাল অঙ্কের এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সফল হতে পারবেন বলে জানালেও অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এরআগে (২০১৮-১৯) অর্থবছরে এখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৫ হাজার ৪শ’ ৪৩ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪শ’ ৪৩ কোটি টাকা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট,এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, এপথের বাণিজ্য আরো গতিশীল করতে ভারত-বাংলাদেশ সরকার উভয়ে আন্তরিক হয়ে ইতিমধ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান চার দেশের বাণিজ্য চুক্তিও বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামগত বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয়তার তুলনায় সুফল পাচ্ছে না।

তাই প্রয়োজনীয় অবকাঠামগত উন্ননয় না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেধে দেয়া বিশাল অঙ্কের এ লক্ষ্যমাত্র অর্জনে ব্যর্থ হতে পারেন বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বন্দর একটি সম্ভাবনাময় বন্দর। এ বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩৮ হাজার মে.টন। কিন্তু এখানে সবসময় পণ্য থাকে প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি। স্থান সংকুলন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি, কাদায় পন্যের গুনগত মান নষ্ট হয়ে যায়। যেকারণে অবকাঠামগত উন্নয়ন না হলে এপথ দিয়ে আমদানি বাড়ার তেমন সুযোগ নেই।

তবে, সরকার যদি বেনাপোল বন্দরের সমস্যা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবে, বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয় তা বেড়ে টার্গেটের দ্বিগুন হবে বলেও জানান তিনি।
বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক মো: ইদ্রিস আলী জানান, বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষাগার না থাকায় পণ্যের নমুনা পরীক্ষণের জন্য এখনও ঢাকাতে পাঠাতে হয়। রিপোর্ট হাতে পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন, কখনো মাসের অধিক সময় লেগে যায়।

এতে, আমদানি পণ্য বন্দরে আটকে থেকে যেমন লোকনান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের তেমনি পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা নিরোসনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এতে দিনেদিনে এ পথে আমদানি কমেছে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রাদুস কান্তি দাস বলেন, পূর্বের চেয়ে বন্দরের নিরাপত্তা বেড়েছে। অবকাঠামগত উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের আয়তন বাড়াতে কিছু নতুন জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এছাড়া বন্দরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতেও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোল বন্দরের এসকল কাজ সমাপ্ত হলে ব্যবসায়ীদের আর কোন অভিযোগ থাকবে না।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পরিসংখ্যন শাখার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন এবারের ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৬০২৮.৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের চৌকস কমিশনারের নির্দেশে অধিনস্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকতার সাথে রাজস্ব বোর্ডের বেধে দেয়া টার্গেট পূরণে কাজ করছেন।