• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:১৬

বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজারকে দেখতে হাসপাতালে অসীম


নেত্রকোন প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এম,পি রোববার দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন তালুকদারকে দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে হাসপাতালে ছুটে যান। এসময় তিনি তাঁর চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

অসীম কুমার উকিল এমপি বলেন, গোলজার ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন ত্যাগী নেতা। তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জন্য সংগ্রাম করেছেন। আমি প্রার্থনা করি বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার ভাই দ্রত সুস্থ হয়ে উঠুক।একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি গুলজার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম দেশ মাতৃকার জন্য। লাল সবুজের পতাকার জন্য। বাঁচবো কি মরবো সেই চিন্তাই করিনি। আজ যখন দেখলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ফুসফুসে ক্যান্সার নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি তখন না এসে পারলাম না। আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুলজার ভাইয়ের সমস্ত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবেন। কারণ আমি তাকে সবসময়ই দু:স্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি।

এসময় অসীম কুমার উকিলের সাথে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত সরকার সজল এবং গীতিকার সুজন হাজং উপস্থিত ছিলেন।

অসিত সরকার সজল বলেন, এই গোলজার হোসেন তালুকদার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬১ সালে আইয়ুব মার্শাল ‘ল’ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদার্পণ করেন,মরহুম আব্দুল খালেক সাহেবের হাত ধরে। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন।বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশে,শেখ ফজলুল হক মণি,সিরাজুল আলম খান,আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রলীগের গোপন বিপ্লবী শাখা ‘নিউক্লিয়াসের’ সক্রিয় সদস্য হিসাবে সকল কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন তিনি।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচি প্রচার করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহে প্রতিটি গ্রামে,গঞ্জে। গোলজার হোসেন আগরতলা মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে, বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আন্দোলন ও ৬ দফা,১১দফার আন্দোলনে ‘নেত্রকোনা মহকুমা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের’অন্যতম নেতা হিসাবে নেতৃত্ব দেন। এর মাঝে তিনি স্কলারশিপে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপান যাবার সুযোগ পান। বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডিস্থ বাড়ীতে নেতার আশীর্বাদ নিতে গেলেন। বঙ্গবন্ধু বললেন,“তোদের নিয়ে আমি বাঙ্গালীর মুক্তির স্বপ্ন দেখি”।

গীতিকার সুজন হাজং বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের জন্যেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। একজন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধার পাশে আসুন আমরা সবাই সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আজীবন বিশ্বাসী গুলজার হোসেন তালুকদারের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি জানতে হবে ।