• ঢাকা
  • সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:৫৩

বিবিএস জরিপ মেনে নেয়া যায় না


মো: সাহেদ : গত সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো -বিবিএস যে জরিপ ২০১৯ প্রকাশ করেছে, তাতে হতাশ না হয়ে কোনো উপায় নেই। জরিপে আজকের বাংলাদেশের নারীদের অবস্থা যেভাবে উঠে এসেছে, তাতে মনেই হয় না, ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার হার বেড়েছে। বিবিএসের জরিপ বলছে, স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বাইরে যাওয়া, বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া, স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা, যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং খাবার পুড়িয়ে ফেলা—এই পাঁচ কারণের অন্তত একটির জন্য দেশের প্রতি চারজন বিবাহিত নারীর একজন স্বামীর হাতে মার খান। এখানেই হতাশাজনক তথ্যের শেষ নয়। বিবিএসের তথ্য বলছে, আশঙ্কাজনকভাবে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন বেড়েছে। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সের শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ সমীক্ষা চলাকালীন আগের এক মাসে অন্তত একবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছয় বছর আগে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো। বিবিএসের জরিপে ইতিবাচক কিছু নেই, তা নয়। জরিপ বলছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন বা ল্যান্ডফোন আছে। বাল্যবিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উন্নতি হয়েছে শিশুমৃত্যু পরিস্থিতিরও। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষিত। ৯২ শতাংশের পরিবারে বিদ্যুতের সংযোগ আছে। আর ৮৪ শতাংশের বেশি পরিবারে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা আছে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতনের যে চিত্র এ সমীক্ষায় উঠে এসেছে, তা রীতিমতো লজ্জার। এ চিত্র একটি সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ সমাজকে কি আমরা সভ্য সমাজ বলতে পারি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ চিত্র সব অর্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।

আমরা মনে করি, বিষয়টি নিয়ে  শুধু সরকার নয় সবাইকে ভাবতে হবে। সমাজকে এগিয়ে  নেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে। তা না হলে আমাদের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।