• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ২:৪৭

বিক্ষোভ-সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ইরাক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ, সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ইরাক। বেকারত্ব ও দুর্নীতি নির্মূলের দাবিতে টানা চার দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে সাধারণ মানুষ।
গত চারদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত৭২ জন। বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহাদি বলেছেন, রাতারাতি সঙ্কট সমাধানের কোনো যাদু তার জানা নেই।
শুক্রবার (৫ অক্টোবর) টানা চতুর্থ দিনের মতো কারফিউ ভঙ্গ করে রাজধানী বাগদাদে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে তারা। আন্দোলকারীদের দমনে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। পরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যে কোরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে হতাহত হন অনেকে।
বেকারত্ব ও দুর্নীতি নির্মূল এবং সরকারি চাকরির দাবিতে চারদিন আগে রাজধানী বাগদাদের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। এসময় তারা প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহের পদত্যাগের দাবি তোলে। বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে প্রথম দিনই প্রাণ হারান ১০ জন।
পরবর্তী দুইদিনে মারা যান আরো ২১ জন। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী বাগদাদে কারফিউ জারি করা হয় প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদির নির্দেশে। এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাগদাদ ছাড়িয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতেও। শুক্রবার সরকার-বিরোধী এ বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকার আমাদের কোনো ভাবেই দমাতে পারবে না। শুধু সৃষ্টি কর্তার সাহার্যে আমরা বেচে আছি। বাড়ি নেই, বেতন নেই, আমি চারটি ভাষায় গ্রাজুয়েশন করেছি অথচ আজ বেকার হয়ে বসে আছি। কেউ আমাদের সহযোগিতা করছে না।
তারা আমাদের মাথায় গুলি করছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশ নেই যে, তাদের নাগরিকদের লক্ষ্য করে এভাবে গুলি চালায়।
বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণে বিক্ষোভ করলেও চলমান সঙ্কটের যাদুকরি কোনো সমাধান নেই।
আদেল আব্দুল মাহদি বলেন, বিক্ষোভের পেছনে যৌক্তিক কারণ আছে। কিন্তু, আমাদের বুঝতে হবে, রাতারাতি কোন সমাধান আনা সম্ভব নয়। সাময়িক কারফিউ জারি করার মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আমাদের জন্য কষ্টকর ছিল। মাঝে মাঝেই বড় অসুখে তেতো ওষুধ লাগে। আমাদেরকে দেশের সর্বত্র স্বাভাবিক জনজীবন নিশ্চিত করতে হবে, এবং সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
দেশটির এমন সংঘাত সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের তীব্র জাতিসংঘের মানবাধিক কমিশনের হাইকমিশার।

নতুন কাগজ/আরকে